১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ধর্ষণের ঘটনায় এসআইয়ের পর শার্শার ওসি প্রত্যাহার : ৩ আসামি রিমান্ডে

শার্শা থানার সাবেক ওসি এম মশিউর রহমান - নয়া দিগন্ত

যশোরের শার্শা উপজেলার আলোচিত গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরই তদন্ত কাজ শুরু করেছেন পিবিআইর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় এসআই খায়রুলকে প্রত্যাহারের পর শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ অবশ্য বলছে, এটি পুলিশের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। আর আটক আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শার্শার গোড়পাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুলকে তার দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় আসামির স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠে। এ সংবাদ দেশব্যাপী তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। কিন্তু মামলার এজাহারে খায়রুলের নাম না থাকায় তা ব্যাপক সমলোচনার জন্ম দেয়। প্রশাসন মনে করছে এ দায় এড়াতে পারে না ওসি। তাই কৌশলে ওসি এম মশিউর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর সেখানে নিযুক্ত করা হয়েছে ওসি আতাউর রহমানকে। ওসি আতাউর রহমান বরিশাল রেঞ্জে নিযুক্ত ছিলেন।

যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক শনিবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়নি। দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকায় প্রশাসনিক কারণে পুলিশের হেড কোয়ার্টার থেকে বদলি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর এলাকায় এক আসামির স্ত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খায়রুল ও তার সোর্স কামরুল তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরপর ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওই গৃহবধূ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। ওইদিন রাতেই শার্শা থানায় মামলা দায়ের করেন গৃহবধূ। মামলায় এসআই খায়রুলের নাম রাখা হয়নি। আসামি করা হয় কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, লক্ষ্মণপুর এলাকার আব্দুল লতিফ, আব্দুল কাদের ও অজ্ঞাত একজনকে।

পুলিশ ঐ রাতে তাদেরকে আটক জেল হাজতে প্রেরণ করে। রোববার তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। চীফ জুডিসিয়াল বিচারক তাদেরকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। আটককৃত আসামিরা হলেন- পুলিশের সোর্স কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, লক্ষ্মণপুর এলাকার আব্দুল লতিফ, আব্দুল কাদের।


আরো সংবাদ