২১ নভেম্বর ২০১৯

খাল খননে পুকুর চুরির অভিযোগ

বাগেরহাটের শরণখোলায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি খাল খননে পুকুর চুরির অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, প্রকল্পের অনেক কাজ না করেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের পায়তারা চালাচ্ছেন ঠিকাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুস্ক মৌসুমে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পানি সংকট দূর করার লক্ষ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা খালের পানির ঘাট এলাকা থেকে দক্ষিণ তাফালবাড়ী বড়ইতলা এলাকা পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০০ মিটার খাল খননের কাজ পান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালী পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাইয়েদ শিকদার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। উক্ত খনন কাজ তদারকির দায়িত্ব পালন করেন,পাউবোর জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা এস.ও আলতাফ হোসেন।

খাল খননে অনিয়মের বিষয় রায়েন্দা ইউনিয়নের কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহিন আকন সহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, খনন কাজ শেষে খালের উভয় পার্শ্বে জমাট করে রাখা মাটি ড্রেসিং, ঘাস স্থাপন, দু’পাশের বনায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাইলিংসহ অনেক কাজ না করে ঠিকাদার আবু সাইয়েদ প্রধানমন্ত্রীর এলাকার ক্ষমতা দেখিয়ে খনন কাজে পুকুর চুরির আশ্রয় নেন।

এমনকি, তদারককারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় না করে নাম মাত্র কাজ করে প্রকল্পটি সমাপ্ত করেছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের তেমন কোন উপকার হবে না। এছাড়া মাটির ড্রেসিং না করায় গত কয়েক মাসের বর্ষায় তা ধুয়ে পুনরায় খালের তলদেশে জমাট হয়েছে। এখানে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করেন।

এ ব্যাপারে কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা পাউবোর কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, খালটি খননের পর কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তবে এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত আছে। উক্ত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারের কাজ থেকে প্রকল্পের সকল কাজ বুঝে নেওয়া হবে।

তবে, ঠিকাদার আবু সাইয়েদ শিকদার বলেন, ওই প্রকল্পের সকল কাজ ইতোমধ্যে সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় কিছু বিপদগামী যুবক কাজের সময় তার নিকট চাঁদা দাবী করেন। দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে তারা অনিয়মের অভিযোগ করতে পারেন।


আরো সংবাদ