১৫ নভেম্বর ২০১৯

সংসদে আলোচনা ছাড়াই ভারতের সাথে চুক্তি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন : গয়েশ্বর

সংসদে আলোচনা ছাড়াই ভারতের সাথে চুক্তি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন : গয়েশ্বর - নয়া দিগন্ত

বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, জাতীয় সংসদে আলোচনা ছাড়াই আপনি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের পানি, ঊপকূল, বন্দর ও গ্যাস দিতে পারেন না। এটা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কথা বললেই দেশপ্রেমিক আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করবে আপনার পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী? নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আজও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারলেন না।

ভারতের সাথে করা দেশ বিরোধী চুক্তি বাতিল, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অংশ হিসেবে খুলনায় আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার বিকেলে নগরীর কে.ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিতএ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহানগর শাখার সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

সমাবেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পায়নি বাংলাদেশের জনগণ। আবার অসময়ে ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করা হয়েছে। ভারতের আবদারে এখন আবার ফেনী নদীর পানি দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় রাডার বসিয়ে নজরদারী করবে ভারত! তাতে আর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব থাকলো? আবার রাডার বসানোর কারণে অহেতুক অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আমাদের বৈরিতার সৃষ্টি হতে পারে। মংলা বন্দর কার স্বার্থে? কিসের বিনিময়ে ভারতকে ব্যবহার করতে দিচ্ছেন? সেটা জানতে চাইতেই পারে বাংলাদেশের জনগণ।

তিনি বলেন, জনগণকে সাথে নিয়ে বিনাভোটের সরকারের সকল অন্যায়-অপকর্ম দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রতিবাদ করতে পারতেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সে কারণেই তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় প্রহসনের বিচারে কারারুদ্ধ করে রেখেছেন। তাতেও আপনার শেষ রক্ষা হবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যে অমানবিক আচরণ করছেন, সময়ের ব্যবধানে একদিন আপনাকে এর চেয়েও জঘন্যতম পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড গত ১১ বছর ছাত্রলীগের অপকর্মের বহিঃপ্রকাশ। সমগ্র বাংলাদেশের পবিত্র ক্যাম্পাস দখল করে বিরোধী দল-মত দমনে টর্চারসেল বানিয়ে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর উপর নিপীড়ন চালিয়ে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও টেন্ডারবাজী করে শিক্ষাঙ্গন সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য বানিয়েছে। সকল শিক্ষাঙ্গনের ক্যাম্পাস থেকে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে উৎখাতে আজ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত। তাদের আন্দোলনের ভাষা দেশবাসীর মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি একজন বলেছেন, আমি মা হয়ে আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার করবো। সমস্যা নাই তো, তার উপরের জন বাবা হয়ে খুনীদের সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি দেবেন। আদালতকে আজ্ঞাবহ যন্ত্রে পরিণত করায় দেশের মানুষ তাদের উপর আস্থা হারিয়েছে। প্রতিটি মুহুর্তে সরকারের প্রতি জনগণ অনাস্থা জানাচ্ছে। সর্বশেষ রংপুরের উপ-নির্বাচনে সেখানকার জনগণ নির্বাচন বয়কট করেছে। কেউ উপস্থিত হয়নি। অবশ্যই ভোটার শুণ্য নির্বাচনে এ ফ্যাসিষ্ট সরকার আগে থেকেই অভ্যস্ত। গেল দু’টি জাতীয় নির্বাচনই হয়েছে ডে-নাইট।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, আমীর এজাজ খান, দেলোয়ার হোসেন খোকন, অ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, মীর কায়সেদ আলী, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, খান জুলফিকার আলী জুলু, আরিফুজ্জামান অপু, কামরুজ্জামান টুকু, মোল্যা মোশাররফ হোসেন, খায়রুল ইসলাম খান জনি, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, মাহবুব হাসান পিয়ারু, মুজিবুর রহমান, একরামুল হক হেলাল, শফিকুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ ও ওয়াহিদুজ্জামান রানা।


আরো সংবাদ