১১ ডিসেম্বর ২০১৯

মাদকের টাকায় পিকনিক, ওসি-এসআই ক্লোজড

মাদকের টাকায় পিকনিক, ওসি-এসআই ক্লোজড - ছবি : সংগৃহীত

জীবননগর উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ না করা, সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গনি মিয়া ও শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈদকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাদের জীবননগর থানা থেকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয় ।

জীবননগর উপজেলার শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামান সাঈদের বিরুদ্ধে আসামি ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ করেন শাহাপুর ক্যাম্পের আনসার সদস্য ফারুক হোসেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গত রোববার রাত ১১টার দিকে শাহপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাঈদ এবং উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ না করা ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গতকাল বিকেলে জীবননগর থানার ওসি শেখ গনি মিয়াকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়।

আনসার সদস্য ফারুক অভিযোগ করে বলেন, গত রোববার সন্ধ্যায় বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা এনে শাহাপুর ক্যাম্পে ভাগ করা হয়। এ সময় জীবননগর থানার ওসি শেখ গনি মিয়াকে ১৫ হাজার টাকা, কনস্টেবল মেহেদীকে ৫ হাজার টাকা, কনস্টেবল আক্তারকে ৩ হাজার টাকা দেয়াসহ মোট ৯৫ হাজার টাকা ভাগ করে ক্যাম্পে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা নেয়া ও তাদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি আমি পুলিশ সুপারকে জানানোয় তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামান বলেন, ‘কোনো আসামিকে আটক করে ছেড়ে দেয়া তো দূরে থাক, তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র এক মাস, এ সময়ের মধ্যে যেসব আসামি আটক করেছি, তাদের জীবননগর থানায় সোর্পদ করেছি।’

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল বলেন, দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে পালন না করার অভিযোগ পাওয়া যায় ওসি শেখ গণি মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে তার ব্যর্থতার প্রমাণও পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখতে না পারার অভিযোগও রয়েছে ওসি গণি মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামানকে আসামিদের ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও দায়িত্ব-কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে জীবননগর থানার ওসি শেখ গণি মিয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া যায়, এর দায় থানার ওসি এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকেই ছাড় দেয়া হবে না। শুধু মাদকই নয়, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ

সেনাপ্রধানসহ মিয়ানমারের ৪ কর্মকর্তার ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের ভিপি নুরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় তদন্তের নির্দেশ অনুমতি ছাড়া বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না ডাকসুর উদ্যোগে ঢাবিতে বইমেলা শুরু স্পিকারের সাথে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ নতুন রঙে মুদ্রিত ৫০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট চালু ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু ৪ জানুয়ারি এনামুল বাছিরের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানালেন সেনাপ্রধান মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতি : সভাপতি আরিফ সম্পাদক সাজ্জাদ

সকল