২৩ আগস্ট ২০১৯
ঈদবাজার

মিরপুর বেনারসি পল্লীতে ক্রেতা নেই

-

ঈদকে সামনে রেখে জমজমাট অন্যান্য ঈদ বাজারে বিপণিবিতানের চেয়ে ঠিক উল্টো চিত্র মিরপুর বেনারসি পল্লীতে। গতকাল সরেজমিনে এ পল্লীতে খুব একটা ক্রেতা দেখা যায়নি। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিপণিবিতানগুলোতে বাহারি সাজ থাকলেও ক্রেতা খুব একটা ছিল না। যা ছিল তা অন্য বছরের তুলনায় একেবারেই সামান্য। এর মধ্যে দু’এক দোকানে অল্প পরিসরে ক্রেতা ভিড় লক্ষ করা গেছে। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখছেন পছন্দের পণ্য। দরদামে মিললে, কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন অনেকে। যদিও এমন অবস্থায় হতাশ বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেট্রোরেলের নির্মাণকাজে রাস্তার বেহাল অবস্থা আর তীব্র গরমের কারণেই এমন অবস্থা হয়েছে। তারা জানান, আগে অনেক দূর থেকেও ক্রেতারা বেনারসি পল্লীতে ছুটে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ক্রেতারা ঝামেলা এড়াতে এদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। রাস্তার ঝুঁকি নিয়ে ক্রেতারা বেনারসি পল্লীতে আসতে চাইছেন না।
কয়েকজন বিক্রেতারা জানান, শেষ দিকে ব্যবসা জমবে এমন আশায় তারা ক্রেতাদের সাধ ও সাধ্যের দিক বিবেচনায় রেখে এবার নিয়ে এসেছেন দেশীয় ঐতিহ্যের নানা বাহারের শাড়ি। এসব শাড়িতে কারিগরদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠেছে দেশের ঐতিহ্য। এর মধ্যে রয়েছেÑ কাতান, গাদোয়াল, ইক্কত, তসর, মটকা, মেঘদূতসহ নানান রকমের শাড়ি। মূল্যভেদে এগুলোর দাম ৮০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তাদের মতে, এ বছর ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে কাতানের পাশাপাশি গাদোয়াল, ইক্কত, তসর, মটকা, মেঘদূত শাড়ি।
তবে একাধিক বিক্রেতা হতাশা প্রকাশ করে জানান, বিক্রি নেই বললেই চলে। তারা বলছেন, সময়ের পরিবর্তনে ঈদ সামনে রেখে নারীদের শাড়ি কেনার আগ্রহ আগের চেয়ে কমেছে। এর মধ্যে অনেক ক্রেতা ঈদ শপিংয়ে ভারতে চলে যাচ্ছেন। ফলে ঈদ উৎসবে প্রত্যাশিত ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তারা। আবার অনেক দোকানি বলেন, তারা ঈদ বাজারের আশাই ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণের চেয়ে তাদের এখন বেশি চিন্তা কর্মচারীদের বেতন নিয়ে। তারা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ সময়ে এ রকম অবস্থা আর কখনো হয়নি।
বেনারসি পল্লীর নামকরা শোরুমের মধ্যে রয়েছেÑ মনেরেখ, শাহিনা ফ্যাশন, তানহা, আলহামদ, লীলাবালি, সিল্ক সম্বার, মিরপুর বেনারসি কুটির, বেনারসি মিউজিয়াম, বিয়ের বাজার, পাবনা এম্পোরিয়াম, ব্রাইডাল, মাহমুদা শাড়ি, টপটেন, গোল্ডেন বেনারসি ইত্যাদি।
মিরপুর বেনারসি কুটিরের বিক্রয়কর্মী জানান, বিচ্ছিন্ন দু-একজন ক্রেতা আসছেন, বিক্রিও হচ্ছে কিছু শাড়ি। তবে ঈদবাজার বলতে যা বোঝায়, তা বেনারসি পল্লীতে এখনো নেই। গোল্ডেন বেনারসির বিক্রয়কর্মী জানান, ঈদের আমেজ বেনারসি পল্লীতে নেই। কিছু পাইকার ঈদের আগে শাড়ি কিনে নিলেও বর্তমানে বিক্রি খুব কম।
বিক্রেতারা জানান, বেনারসি পল্লীতে ২৫-৩০ ধরনের বিভিন্ন নাম ও ডিজাইনের শাড়ি রয়েছে। সে সাথে রয়েছে থ্রি-পিস, প্রিন্টের শাড়ি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, লেহেঙ্গা, সিল্ক আর সুতি শাড়ি, শেরওয়ানি, পাঞ্জাবি, পায়জামা, লুঙ্গি, গামছা, ছোটদের ড্রেসসহ রকমারি পোশাকের সমাহার। তাই প্রতিবছর ঈদ উৎসবের কেনাকাটায় একশ্রেণীর ক্রেতার আগ্রহের শীর্ষে থাকে মিরপুর বেনারসি পল্লী। ফলে রমজানের শুরু থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে এ পল্লী। কিন্তু এবারই তার ব্যতিক্রম। মধ্য রমজানেও ব্যস্ততার বদলে অলস আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।
গুলশান থেকে শাড়ি কিনতে আসা সামিয়া জানান, তিনি প্রতি বছরই বিভিন্ন উৎসবে এখান থেকে শাড়ি কিনেন। বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে জানলে এখানে আসতাম না। রাস্তার এমন অবস্থায় অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছে।
একই প্রতিক্রিয়া জানান শ্যামলী থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আসা শাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ভাইরে, অনেক দিন এদিকে আসিনি। আজ এসে তো অনেকটা বিপদেই পড়েছিলাম। কাটা রাস্তায় এলোমেলো গাড়ি, জানজট সব মিলিয়ে চরম বিরক্ত হয়েছি’। এ রকম হলে আর হয়তো আসব না’।

 


আরো সংবাদ