১৯ জুলাই ২০১৯
শিক্ষামন্ত্রীর সাথে ছাত্রলীগ নেতাদের বৈঠক

ববি ও বেরোবির ভিসির শাস্তি চাইলেন নেতারা

-

শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সাথে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রলীগ নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। এ সময় তারা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের জানানো হলেও অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার সাথে সাথে জানিয়ে দেয়া হয়, ‘মিডিয়া নট অ্যালাউড’। সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য নিতে চাইলে পরে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
পরে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা কর্তৃক সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে এটাই প্রথম কোনো শিক্ষামন্ত্রীর ছাত্র নেতৃবৃন্দের সাথে এমন আয়োজন। এ ব্যতিক্রমী আয়োজনের ফলে ছাত্র নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। বৈঠকে ছাত্র নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যা, ট্রান্সপোর্ট সমস্যা, ইন্টারনেট সমস্যা, পরীক্ষায় কোডিং সিস্টেম চালু করা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, কেন্টিনের সমস্যা, খাবার সমস্যা, লাইব্রেরির সমস্যা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধীরগতি এবং বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে আলোচনা করেন। মন্ত্রী আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে তাকে জানানোর জন্য বলেন। তিনি দুই সপ্তাহের মধ্যে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, রেজিস্টার এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে জড়িত পিডিদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে বৈঠকে আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। কোনো সমস্যা হলে তা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে সমাধান করার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাঙ্গনে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষকদের দলাদলিতে ছাত্র নেতৃবৃন্দকে না জড়াতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
উপমন্ত্রী বলেন, ছাত্র হিসেবে ছাত্রদের প্রধান কাজ হলো লেখাপড়া করা এবং ওই লেখাপড়া কাজে লাগিয়ে নিজের ক্যারিয়ার ও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন আছে, এই আইনের মধ্যে থেকে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, পরিবহন সঙ্কট ও লাইব্রেরির পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ শিক্ষামন্ত্রীকে জানান। রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ছাত্রলীগকে ছাত্রদের দাবি-দাওয়া আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে, পাশাপাশি শিক্ষকদের সাথেও সুসম্পর্ক রাখতে হবে। গোলাম রাব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক সময় তাদের স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার করে। ছাত্র রাজনীতি যারা করে, তাদের অনেক সময় কম নাম্বার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন, যা খুবই দুঃখজনক। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ প্রস্তাব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইন। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণ চালুর প্রস্তাব দেয়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর পর্যায়ে সেমিনার আয়োজন করা এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রবন্ধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ছাত্রলীগের সাথে অন্যদের দ্বন্দ্বসহ নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে বৈঠকে।


আরো সংবাদ