১৯ আগস্ট ২০১৯
আলোচনা সভায় বক্তারা

দেশী দুধই নিরাপদ করতে হবে

-

বিকাশমান দুগ্ধ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বিদেশী নয়; দেশী দুধই নিরাপদ করতে হবে। এ জন্য পরীক্ষার নিমিত্ত দুধের নমুনা সংগ্রহে দুর্নীতিমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), ডাব্লিঊবিবি ট্রাস্ট, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, জনউদ্যোগ, বিসিএইচআরডি, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, গ্রিনফোর্স, সুবন্ধনসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ‘ঢাবি অধ্যাপকের পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গবেষণা : জনস্বার্থে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডা: লেলিন চৌধুরী। বক্তব্য দেন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো: আবু সাঈদ,
ডাব্লিঊবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, জনউদ্যোগের সমন্বয়কারী তারিক হোসেন, বিসিএইচআরডি প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুল হক, গ্রিনফোর্সের সমন্বয়কারী মেজবাহ উদ্দিন সুমন, সক্রিয়বাদী শেখ ফরিদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুনু আলী ও নিরাপদ পানি আন্দোলনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন।
আলোচকরা বলেন, হাইকোর্টের নির্দিষ্ট করে দেয়া ল্যাবরেটরিতে সরবরাহ করার জন্য নমুনা সংগ্রহ যেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী হয়। নমুনা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে। আর খোলা বাজার থেকে ‘রেন্ডম স্যাম্পলিং’ পদ্ধতিতে নমুনা নিতে হবে। কোনোমতেই ঘোষিত পূর্বনির্ধারিত স্থান থেকে সংগৃহীত অথবা কোম্পানির সরবরাহ করা নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা চলবে না। নমুনা সংগ্রহের সময় কয়েক প্রস্থ সংগ্রহ করতে হবে। আদালতের নির্দিষ্ট করা ল্যাবে এক প্রস্থ নমুনা পাঠাতে হবে। আরেক প্রস্থ নমুনা দেশের বাইরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত রেফারেন্স ল্যাবে পাঠাতে হবে। এতে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কা ও আতঙ্ক দূর হবে।
বক্তারা বলেন, দুধ একটি অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ খাদ্যটির গুরুত্ব অপরিসীম। এরকম প্রয়োজনের তাগিদেই তরল কাঁচা দুধকে পাস্তুরিত করার পর প্যাকেটজাত করে সরবরাহ করার আধুনিক পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। আধুনিক যুগে পুরো ব্যাপারটাই শিল্পের মর্যাদায় উত্তীর্ণ হয়েছে। খাদ্যের সাথে জীবন ও সুস্থতার সারাসরি সম্পর্ক। তাই বাণিজ্যিকভাবে লেনদেন হয় এমন সব খাদ্যের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এ মান নির্ধারণের কাজটি করে থাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ সংস্থার নির্দেশক সূচি অনুযায়ী প্রতিটি দেশ নিজস্ব মান তৈরি করতে পারে অথবা সরাসরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অনুসরণ করতে পারে।
তারা আরো বলেন, তরল পাস্তুরিত দুধের জন্য আমাদের একটি দেশীয় মানদণ্ড রয়েছে। কিন্তু একটি অসাধু চক্র আমদানিকৃত নি¤œমানের গুড়া দুধ দিয়ে তৈরি করছে তরল দুধ। এমনকি ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে দুধ
তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানিতে কম মূল্যে সরবরাহ করছে এমন প্রতিবেদনও প্রায়ই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এই অসাধু চক্রের কারণে প্রকৃত চাষিরা বাজারে সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। ফলে আর্থিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 


আরো সংবাদ