১৮ আগস্ট ২০১৯
ভোটারদের কাছে ধরনা দিচ্ছে প্রার্থীরা

নেতৃত্বহীন ছাত্রদলের কাউন্সিল অনিশ্চিত

-

সময় মতো অনুষ্ঠিত হয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল। গত সোমবার (১৫ জুলাই) এই কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংগঠনের বিলুপ্ত কমিটির বিক্ষুব্ধ নেতাদের আন্দোলনের কারণে নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সার্চ কমিটি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার গুলশানে সার্চ কমিটির সাথে বিক্ষুব্ধদের দীর্ঘ বৈঠক হয় কোনো সমাধান ছাড়াই। কোরবানির ঈদের আগে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। ফলে ছাত্রদলের কাউন্সিল এখন অনিশ্চিত। সেই সাথে নেতৃত্বহীন ছাত্রদল। দীর্ঘ ২৭ বছর পর প্রত্যক্ষ ভোটে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নির্দেশনায় কাউন্সিলের কাজ অনেকটা এগিয়ে যায়। তফসিলও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শেষমুহূর্তে ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে ফের জটিলতা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধদের দাবি মানা না মানা নিয়ে একপর্যায়ে সার্চ কমিটি এবং স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান। এখন ছাত্রদলের কাউন্সিল কবে হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ জানে না। শুধু বলছেন দ্রুত ছাত্রদলের কাউন্সিল হবে। এসব কিছুকে ছাপিয়ে ছাত্রদলের শীর্ষ পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সারা দেশের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। নিজেদের আমলনামা তুলে ধরে চালাচ্ছেন প্রচারণা। এরই মধ্যে প্রায় ছয়জন প্রার্থী বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা সফর করেছেন। অনেকেই সফরে রয়েছেন। শীর্ষ পদের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও দিচ্ছেন ধরনা। তবে ছাত্রদলের নতুন নেতা নির্বাচনে বিএনপির হাইকমান্ড যে শর্ত দিয়েছে তা বহাল থাকবে। প্রয়োজনে বিক্ষুব্ধদের সমন্বয়ে একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হতে পারে। অথবা তাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে রাখা হবে।
ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, ছাত্রদলের সঙ্কট সমাধানের জন্য আলোচনা অব্যাহত আছে। একটি ইতিবাচক সমাধান অবশ্যই হবে। তবে বিক্ষুব্ধদের দলের নির্দেশনা মেনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ঈদের আগে কাউন্সিল হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বলা যাচ্ছে না, তবে আমরা শিগগিরই জানাব।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিল করা হয়। একই সাথে পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটির প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনটি যোগ্যতা নির্ধারণী শর্তও ঠিক করে দেয়া হয়। কিন্তু এ নিয়ে বিলুপ্ত কমিটির একটি অংশ আন্দোলন করতে থাকে। এরই মধ্যে গত ২২ জুন ১২ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকে। এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ^র চন্দ্র রায়কে সঙ্কট নিরসনের দায়িত্ব দেয়া হয়। আলোচনার একপর্যায়ে গত ৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেন বিক্ষুব্ধরা। বিক্ষুব্ধদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলেও অদ্যাবধি তা হয়নি।
ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা : এদিকে আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা এরই মধ্যে নিজেদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে দলের পক্ষে কার কি ভূমিকা ছিল এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণসহ নানা বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে প্রচারণায়।
ছাত্রদলের সভাপতি পদের জন্য আগ্রহী হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি সিলেট বিভাগ সফর শেষে এখন বরিশাল বিভাগ সফর করেছেন। আমিরুল ইসলাম সাগর বলেন, তিনি সভাপতি হলে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলকে সক্রিয় ও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করবেন। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তানজিল হাসান বলেন, তিনি বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। কাউন্সিলে তাকে ভোটাররা মূল্যায়ন করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। সেক্রেটারি প্রার্থী আমিনুর রহমান আমিন বলেন, আমি বিগত আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আশা করি কাউন্সিলর এবং দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। এই পদে অন্য প্রার্থী মাহমুদুল আলম শাহিন বলেন, তিনি চট্টগ্রাম বিভাগ সফর করেছেন। কাউন্সিলর সাথে কথা বলেছেন। প্রত্যাশিত পদে তাকে কাউন্সিলররা মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশা করেন।

 


আরো সংবাদ