১৯ আগস্ট ২০১৯

দৌলতদিয়া ফাঁকা পাটুরিয়ায় চাপ ঈদে বাড়ি ফেরা

-

কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া, তীব্র স্রোত আর ফেরিস্বল্পতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে। নদী পারের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে সহস্রাধিক যানবাহনকে। এর মধ্যে পশুবাহী ট্রাকের চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য।
কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের চিত্র একেবারেই আলাদা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষের দাবিÑ শুক্রবার সকাল থেকেই গরুর গাড়ির চাপ কমে যাওয়ায় একেবারে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা। তবে পাটুরিয়া পারে যানবাহনের চাপ রয়েছে। ফেরি কম ও নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ধীর গতিতে ফেরি চলায় পারের সময় দ্বিগুণ লাগছে। ফলে দৌলতদিয়া পারে যানবাহনের অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও জানান শাখাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি।
স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় পারাপারের কাজে ব্যবহৃত ২০টি ফেরির মধ্যে কমবেশি থাকলেও ঈদ উপলক্ষে ১৯টি ফেরি পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন দুই হাজারের ওপড়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। আর ঈদের সময় সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণ/তিনগুণ। অথচ ঘাট কর্তৃপক্ষ সে তুলনায় ফেরির সংখ্যা বাড়ায় না একটিও। যাও স্বাভাবিক সময় থাকে তাও আবার দুই-একটি ফেরি কৃত্রিম সঙ্কটে নষ্ট হয়ে ঘাটে বসে থাকে।
শুক্রবার সকালে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় খুব একটা যানবাহন ঢাকার উদ্দেশে নদী পারের অপেক্ষায় নেই। তবে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষেরা ফেরি ও লঞ্চে পার হতেই মূল সড়কে চলে আসছে। কারণ দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন কম থাকায় ভাড়াও নিচ্ছে দুই-তিন গুণ বেশি। এ জন্য কে আগে গাড়িতে উঠতে পারে তার প্রতিযোগিতা থাকে দক্ষিণের যাত্রীদের মধ্যে।
ঢাকা থেকে মাগুরাগামী ঈগল পরিবহনে আসা যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, পাটুরিয়া এলাকায় নদী পারের অপেক্ষায় যানবাহনের চাপ রয়েছে। স্রোত বেশি থাকায় ফেরি পার হতে সময় লেগেছে। তবে পার হতেই বসে থাকতে হয়নি সিরিয়ালের গাড়িটিকে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, এখানে কোনো ফেরির স্বল্পতা নেই। তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিগুলো ঠিক মতো চলতে পারছে না। তা ছাড়া একসাথে অনেক গাড়ি প্রবেশ করায় ঘাটে যানজট সৃষ্টি হলেও শুক্রবারে তার ভিন্নতা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের সুপার ভাইজার মহম্মদ আলী বলেন, আমাদের কোনো লঞ্চ বসে নেই। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২২টি লঞ্চ পারাপারে কাজ করছে। এপারে চাপ খুব একটা নেই, তবে ওপার থেকে যখন লঞ্চগুলো আসছে তখন চাপ রয়েছে যাত্রীদের। বৈরী আবহাওয়া না হলে আশা করছি ঈদে ঘরে ফেরা মানুষগুলো কোনো সমস্যা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারবে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে জেলা পুলিশ থেকে ২৬০ জন পুলিশ দৌলতদিয়ায় রয়েছেন এবং হাইওয়ে পুলিশের ৬০ জন পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত আছেন। এ ছাড়া ঈদে ঘরে ফেরা বা কর্মস্থলে ফিরে যেতে যেকোনো ধরনের হয়রানি হলে সরাসরি তাকে জানানোর অনুরোধও করেন পুলিশ সুপার।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, যেকোনো ধরনের হয়রানি বা জনদুর্ভোগ এড়াতে ঘাটে সার্বক্ষণিক জেলা প্রশাসন থেকে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োজিত রয়েছেন। তারা আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত ঘাটে দায়িত্ব পালন করবেন।

 


আরো সংবাদ

ব্যাগে টাকা আছে ভেবে শারমিনকে হত্যা করে রিকশা চালক রাজু উড়াও পুঠিয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের রুল সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্রের মালিকরা অস্তিত্বহীন : প্রধান বিচারপতি গ্রীনল্যান্ড বিক্রির প্রস্তাব হাস্যকর : ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী কাশ্মিরে খুলেছে কিছু স্কুল, উপস্থিতি খুবই কম বোয়ালখালীতে ফাঁড়ি ইনচার্জসহ ২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম কি দীর্ঘায়িত হবে? হংকংয়ের বাংলাদেশীরা কী নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন? ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ডেঙ্গু জ্বরে আরো একজনের মৃত্যু জাপানের কানসাইয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত

সকল