২৪ অক্টোবর ২০১৯

কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ

কাশ্মিরে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলহ নয়া দিগন্ত -

কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসনের প্রতিবাদে গতকাল জুমার নামাজ শেষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মুসল্লিরা।
ইসলামী আন্দোলন : ভারতের বিজেপি সরকার কর্তৃক সংবিধান পরিবর্তন করে কাশ্মিরিদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এ সময় কোনো কোনো জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করলেও মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ। কোথাও কোথাও বাধার সম্মুখীন হন জেলা নেতৃবৃন্দ। নওগাঁয় মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। বিক্ষোভ সমাবেশগুলোতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারত কাশ্মিরে ভয়াবহ আগ্রাসন চালাচ্ছে। সংবিধানে ৭০ বছর ধরে বিদ্যমান ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারত কাশ্মিরি জনগণের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। যে শর্তের ভিত্তিতে কাশ্মিরকে ভারতের সাথে একীভূত করা হয় সংবিধান থেকে সেই ধারা বাতিল মানেই চুক্তি লঙ্ঘন। আজকে পুরো কাশ্মিরকে অবরুদ্ধ করে, ১৪৪ ধারা জারি করে, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে কাশ্মিরি জনগণের ওপর ভয়াবহ জুলুম চালানো হচ্ছে। কাশ্মিরি মুসলমানদের জীবন নিয়ে বিশ্ববাসী আজ গভীরভাবে শঙ্কিত। কাশ্মিরিদের অধিকার আদায় ও অবরুদ্ধ কাশ্মিরি জনগণকে রক্ষায় বিশ্বাসীকে সোচ্চার হতে হবে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ভারত সরকার দেশের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা এবং জনগণের স্বায়ত্তশাসনের বিলোপ ঘটিয়ে জম্মু কাশ্মির এবং লাদাখ দু’টি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল করার ঘোষণা দিয়ে সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকারহরণ করেছে। ভারত সরকার মুসলিম জাতিসত্তা এবং সে দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ভারত সরকার ইতোমধ্যে অনেক নেতা এবং নিরীহ নাগরিকগণকে গণহত্যা, নারী-শিশু ধর্ষণ ও গণগ্রেফতার করে লোমহর্ষক অবস্থার সৃষ্টি করেছে, যা জঘণ্য অন্যায়, অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার পরিপন্থী।
চট্টগ্রাম ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা দামপাড়া জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ উপরিউক্ত কথা বলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্বে করেন অধ্যক্ষ মাওলানা মিয়া মুহাম্মদ হোছাইন শরিফ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মহিউদ্দিন, মুহাম্মদ ইলিয়াছ ও মকবুল আহমদ প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিক্ষোভ মিছিল
এ দিকে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেট হতে কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় স্বাধীনতাকামী কাশ্মিরিদের এখন জঙ্গি বলে আখ্যা দিচ্ছে। স্বাধীনতাকামীরা কখনো জঙ্গি হতে পারে না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামীরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেমন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে, আজ কাশ্মিরি স্বাধীনতাকামীরাও ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আমরা যেমন মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছি তারাও মুক্তির জন্য যুদ্ধ করছে। তারা জঙ্গি নয়, তারা মুক্তিযোদ্ধা। নেতৃবৃন্দ ভারতের পা-চাটা হলুদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, কলম আপনার হাতে তাই যা ইচ্ছে তা লিখবেন, এটা কোনো মুসলমান সহ্য করবে না। নেতৃবৃন্দ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ভারতের পক্ষ নিয়েছেন। কাশ্মির ইস্যুতে ভারত জালিমের ভূমিকায় আর কাশ্মিরিরা মজলুম। এ দেশের মানুষ কাশ্মির তথা মজলুমের পক্ষে, আপনারা জালিমের পক্ষ নিয়েছেন। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তিনি কাশ্মিরিদের পক্ষে কথা বলতেন। এ দেশের গণমানুষের দাবি অবিলম্বে সংসদে কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনতে হবে। মুদিকে হুঁশিয়ার করে নেতৃবৃন্দ বলেন, জম্মু ও কাশ্মিরকে স্বাধীন করা এখন সময়ের দাবি। আপনার দেশে আপনার কাশ্মির নীতির বিরুদ্ধে সর্বত্র বিক্ষোভ চলছে। কাশ্মিরিরা ৭০ বছর ধরে নিপীড়িত, তারা আজাদী চায়। অতিসত্বর কাশ্মির সমস্যা সমাধান করুন, নতুবা এর পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন না ভারত টুকরা টুকরা হয়ে যাবে। জাতিসঙ্ঘের উদ্দেশ্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, পূর্বতিমুর ও দক্ষিণ সুদানকে আপনারা শান্তির জন্য স্বাধীন করেছেন। কিন্তু কাশ্মিরকে কেন ঝুলিয়ে রাখছেন, কেন হস্তক্ষেপ করছেন না। কাশ্মিরের স্বাধীনতার জন্য ভারতকে কেন চাপ প্রয়োগ করছেন না। এ সমস্যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি আন্তর্জাতিক বিষয়। অবিলম্বে ভারতকে চাপ প্রয়োগ করে কাশ্মিরকে স্বাধীন করুন।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা: রেজাউল করীম রেজা, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সানাউল্লাহ নূরী, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ওয়ায়েজ হোসাইন ভূঁইয়া, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ নেতা মাওলনা মনসুরুল হক জিহাদী, মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন, নগর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ডা: ফরিদ খান, ইসলামী যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি তাজুল ইসলাম শাহীন, নগর সহপ্রচার সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম, ছাত্র খেলাফত চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মাওলানা ওসমান কাশেমী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিশাল মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে দোয়া মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। গতকাল জুমার নামাজ শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজশাহী জেলা শাখার ব্যানারে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট বড় মসজিদ চত্বর থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তারা কাশ্মিরিদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়া ও কাশ্মিরের মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার দাবি জানান। ইসলামী আন্দোলনের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম, মহানগর সভাপতি শফিকুল ইসলামসহ যুব ইসলামী আন্দোলন, ছাত্র ইসলামী আন্দোলন, শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।
পটিয়া-চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া সংবাদদাতা জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি সাংবাদিক শফকত হোসাইন চাটগামী বলেছেন, ভারত বা পাকিস্তানের হয়ে নয় বরং স্থায়ী স্বাধীনতাই কাশ্মির সঙ্কটের একমাত্র সমাধান।
তিনি প্রতিবেশী মুসলমানের হক আদায়ের জন্য বাংলাদেশের সব মুসলমানসহ প্রতিটি সচেতন নাগরিককে ভারতীয় এই আগ্রাসনের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।
গতকাল বাদ জুমা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া কেরানীহাট চত্বরে কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মুহাম্মাদ মিশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সভাপতি মাওলানা নুরুল আলম তালুকদার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জসিম উদ্দীন ও কেরানীহাট বাইতুর রহমান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ হারুন।
ভোলা সংবাদদাতা জানান, কাশ্মিরসহ সারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে আরএসএস, হিন্দু মহাসভাসহ গেরুয়া বাহিনী কর্তৃক ভারতীয় মুসলমানদের ওপর হামলা, নির্যাতন, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এবং কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা শাখা। গতকাল বাদ জুমা ভোলা হাটখোলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ভোলা সদর রোড বাংলা স্কুল মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা শাখা (উত্তর) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলার সহ-সভাপতি মাওলানা তাজউদ্দিন ফারুকী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান মোমতাজী, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আবদুল মমিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইউসুফ আদনান, যুব আন্দোলন সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম প্রমুখ।
লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা জানান, গতকাল বাদ জুমআ কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি দক্ষিণ তেহমুনি মার্কাজ মসজিদ হতে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর তেহমুনি গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভপরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আন্দোলন এর জেলা সভাপতি অনারারি ক্যাপ্টেন (অব:)মুহাম্মদ ইব্রাহিম, জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি আ হ ম নোমান সিরাজির সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মহিউদ্দিন, যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি মামুনুর রশীদ, ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি মো: নুরুল আলম প্রমুখ।


আরো সংবাদ