১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খুলনায় ধর্ষণের অভিযোগে কর কমিশনারের ছেলে গ্রেফতার ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার

-

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলবির এক ছাত্রীকে (২০) বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শিঞ্জন রায় (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ নগরীর বয়রা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার শিঞ্জন রায়ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি খুলনার কর কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায়ের ছেলে।
ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। সে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাসংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে সে পড়াশোনা করত। তাদের মধ্যে এক বছরের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও শিঞ্জন তাকে বিয়ে না করে গত বুধবার অন্য মেয়েকে বিয়ে করায় ওই ছাত্রী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ আনেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়।
ওই ছাত্রী বলে, নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলবিতে সে ও শিঞ্জন রায় একসাথে পড়াশোনা করে। এক বছর আগে শিঞ্জন রায় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এরপর বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাড়া বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। সে বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
কর কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায়ের ছেলে শিঞ্জন রায়কে অন্য মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার খবরে ওই ছাত্রী গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নগরীর মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১৬ নম্বর রোডে গিয়ে শিঞ্জন রায়ের দেখা পান। এ সময় তার বিয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে শিঞ্জন তাকে সেখান থেকে জোর করে ইকে তুলে দিতে গেলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। এ খবর পুলিশের কাছে পৌঁছলে তারা দু’জনকেই সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় নিয়ে আসে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মমতাজুল হক বলেন, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুমেক হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মেয়েটি গতকাল দুপুরে শিঞ্জন রায়কে আসামি করে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেছে।
এ দিকে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় সাত বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শিশুটির শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক পলাতক রয়েছে।
শিশুটির পরিবার জানায়, গতকাল সকালে শিশুটি অন্য শিশুদের সাথে খেলতে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় জনৈক যুবক ফুসলিয়ে তাকে পাশের একটি নির্জন বাড়ির সিঁড়ির নিচে নিয়ে ধর্ষণ করে। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়। এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটি তার পরিবারকে জানিয়েছে, সে ধর্ষকের নাম জানে না, তবে দেখলে চিনবে।
খুমেক হাসপাতালে শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের বাসার পাশেই আমার খালাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান গতকাল শুক্রবার। সকালে মেয়েকে ১৫-২০ মিনিট পাওয়া না যাওয়ায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। আমাদের বাড়ির এক বাড়ি পরে দোতলা বাড়ির সিঁড়ির নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ কারণে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এহসান শাহ বলেন, শিশুটি খুমেকে ভর্তি রয়েছে। ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান চালাচ্ছে।
ভোলা ও নোয়াখালীতে ৩ নারী ধর্ষিত
ভোলা সংবাদদাতা জানান, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পৃথক ঘটনায় অষ্টম শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রী (১৩) ও এক বিধবাকে (৩৫) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ধর্ষিতারা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার বোরহানউদ্দিনের বড় মানিকা ও কাচিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
ধর্ষিতাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাদরাসা ছাত্রীর মা মেয়েকে রেখে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। অন্যদিকে মেয়ের বাবা নদীতে মাছ শিকারে যান। এ সুযোগে একই এলাকার আব্দুল রশিদের ছেলে মো: সোহাগ ছাত্রীকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তার বাবা বাড়ি এলে মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। ওই সময় ধর্ষক মেয়ের বাবাকে মারধর করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা গতকাল বিকেলে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অপর দিকে একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফুল কাচিয়া গ্রামের এক বিধবা নারী (৩৫) স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। গতকাল রাতে ওই নারী তার মুরগির খামারে খাবার দিতে গেলে একই এলাকার মাদকসেবী মাকসুদ, ছালাউদ্দিন ও আলমগীর তাকে মুখ চেপে পার্শ্ববর্তী গরুর খামারে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গণধর্ষণ করে। পরে সকালে স্থানীয়রা তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো: এনামুল হক জানান, স্কুলছাত্রীর ধর্ষণের বিষয়ে ছাত্রীর বাবা তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এবং অপর ধর্ষণের বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিতা ওই মেয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ওই ইউনিয়নের চর আলাউদ্দিন গ্রামের বরইতলা এলাকার একটি মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতিতা জানান, সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে তার বোনের মেয়েকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিল সে। পথিমধ্যে খালপাড় এলাকায় চারজন যুবক তার মুখ চেপে ধরে তাকে পার্শ্ববর্তী একটি খামার বাড়িতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে তার বোনসহ লোকজন উদ্ধার করে।
নির্যাতিতার বড় বোন জানান, ঘটনার পর তার শিশু মেয়ে বাড়ি গিয়ে কান্নাকাটি করে তাকে জানায় তার ছোট বোনকে কারা যেন পথ থেকে তুলে নিয়ে গেছে। এমন খবর জানার পর বাড়ি ও বাড়ির আশপাশের লোকজন নিয়ে বোনকে খুঁজতে খুঁজতে রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে পার্শ্ববর্তী একটি খামার বাড়িতে গিয়ে তাকে বিবস্ত্র ও অজ্ঞান অবস্থায় পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন এবং সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি বলে জানান চরজব্বার থানার ওসি মো: সাহেদ উদ্দিন। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে খোঁজ খবর নিচ্ছেন তিনি।


আরো সংবাদ