১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফিরতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

-

স্বজনদের সাথে ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। সদরঘাট, কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা যায় বাড়িফেরত মানুষের স্রোত। এই সুযোগে ঈদের আগে যেভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে এখনো তেমনি বাড়তি টাকা নিচ্ছে পরিবহন কোম্পানিগুলো। এ নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না যাত্রীরা। সায়েদাবাদ ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে ফিরে আসা যাত্রীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
যাত্রীরা জানান, রোববার থেকে পুরোদমে শুরু হবে অফিস। তাই একদিন আগেই শুক্রবার ঢাকায় ফিরেছেন তারা। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাসগুলো গাবতলী টার্মিনালে এসে থামে। এই রুটের প্রায় প্রতিটি বাস নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করেছেন পরিবহন মালিকরা। তাদের কাছ থেকে দেড় গুণ, দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হয়েছে। একই চিত্র চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটেও। এই রুটের কিছু বাস আরামবাগ, রাজারবাগ, মতিঝিল ও ফকিরাপুলে এসে থামে। এসব পরিবহনেও শুক্রবার বেশি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
একতা পরিবহনে ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য ৩৫০ টাকায় টিকিট পাওয়া গেলেও গতকাল নেয়া হয়েছে ৫০০ টাকা। চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে স্পেশাল বাস সার্ভিসগুলো এসি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং নন-এসি ৪৩০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নেয়। কিন্তু সকালে ঢাকায় এসে নামা কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব পরিবহন নন-এসি সার্ভিসে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা ভাড়া আদায় করেছে। আর এসি সার্ভিসে নিয়েছে ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
ফেনী-ঢাকা রুটে চলাচল করা স্টারলাইন স্পেশাল এবং ড্রিমলাইন স্পেশালেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। এই দুটো পরিবহনের ভাড়া এসি ৩৫০ এবং নন-এসি ২৭০ টাকা। কিন্তু ঈদের তিন দিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত পরিবহন দু’টি বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। নোয়াখালী-ঢাকা রুটের নোয়াখালী এক্সপ্রেস, ঢাকা এক্সপ্রেসসহ অন্য পরিবহনের ভাড়া ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করে রাখা হচ্ছে।
বাড়তি ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে কুমিল্লা-ঢাকা, ভৈরব-ঢাকা, নোয়াখালী-ঢাকাসহ অন্য রুটের বাসেও।
এ দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে মনিটরিং টিমের কার্যক্রম লক্ষ করা গেছে। সায়েদাবাদ টার্মিনালে মনিটরিং টিমের দায়িত্ব পালনরত আনোয়ার হোসেন নামে এক সদস্য জানান, ঈদের আগে বাসগুলো যাতে বাড়তি ভাড়া না নিতে পারে বা যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী না তুলতে পারে, সেই বিষয়ে তারা লক্ষ রাখছেন। কিন্তু এখন বাসগুলো বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসছে। ভাড়া পরিশোধ করেই তারা বাসে চড়েছেন। সে ক্ষেত্রে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাদের কাছে অভিযোগ করলে, তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন।
শুক্রবার বেলা ১টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ ছাড়া মনিটরিং টিমের কাছে সুনির্দিষ্ট বড় কোনো অভিযোগ আসেনি বলেও জানান এই সদস্য।
ঢাকায় নেমে যাত্রীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সিএনজি অটোরিকশার চালকদের দ্বারা। বাস কম থাকায় তিন গুণ ভাড়া আদায় করছে তারা। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে কয়েকজন যাত্রীর সাথে অটোরিকশার চালকদের বাগি¦তণ্ডা হতে দেখা গেছে। রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে যেসব যাত্রী গতকাল এসেছেন তারাও অনেকে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। টাঙ্গাইলের যাত্রী বশির জানান, বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঢাকায় আসতে হয়েছে।
পাবনার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ বলেন, মা-বাবার সাথে ঈদ উদযাপন করে পাবনা থেকে বাসে ঢাকায় ফিরেছি। ৪০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা নিয়েছে বাস কর্মচারীরা।
বগুড়ার বাসিন্দা ফাইজুল ইসলাম জানান, শনিবার অফিস করতে হবে তাই শুক্রবার চলে এসেছেন। যাওয়ার সময় দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনতে হয়েছে। ফেরার সময়ও দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে।
রাজধানীর গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, স্বাধীন, গাংচিল, আরাম, নগর, আজমীরিসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসছে। একটি বাসেও আসন খালি নেই। এখানেও যাত্রীদের অভিযোগ, তাদেরকে জিম্মি করে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে পরিবহন শ্রমিকরা।
মালিবাগের বাসিন্দা মনিরুল বলেন, নড়াইল থেকে মাওয়া এসেছি মাইক্রোবাসে। মাওয়া ঘাটে আসার পর গুলিস্তানের ভাড়া ৭০ টাকা হলেও এখন যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় ২০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।
পাবনা থেকে আসা যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া থেকে গাবতলী ও আরিচা থেকে গাবতলী পর্যন্ত বিআরটিসির নির্ধারিত বাসের ভাড়া ১১৮ টাকা। তবে অন্যান্য লোকাল বাসের ভাড়া ৯০ টাকা। কিন্তু বাসমালিক ও চালকেরা প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন। এ ছাড়া বাসের ছাদে ১০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।


আরো সংবাদ