১৮ অক্টোবর ২০১৯

রোহিঙ্গাসহ রাষ্ট্রহীনদের সঙ্কটে পদক্ষেপ প্রয়োজন : ইউএনএইচসিআর

-

জাতিসঙ্ঘ উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি বলেছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা এবং ভারতের আসাম রাজ্যে রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা বিপুলসংখ্যক সংখ্যালঘুসহ বিশ্বের লাখ লাখ লোকের নাগরিকত্ব হারানো এবং রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা লোকগুলোর নাগরিকত্ব সমস্যার দ্রুত সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জাতিসঙ্ঘ কর্র্মকর্তা গ্রান্ডি বলেন, এ ধরনের লোকদের ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ ধরনের লাখ লাখ লোকের সঙ্কট নিরসনে নেয়া প্রচেষ্টা দ্বিগুণ বাড়াতে হবে।
জাতিসঙ্ঘ হাইকমিশনার গ্রান্ডি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব লোককে রক্ষা করতে না পারলে লাখ লাখ লোকের জীবন বিপন্ন এবং জাতীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইউএনএইচসিআরএ’র বার্ষিক নির্বাহী কমিটির বৈঠক শুরুর আগে তিনি এ কথা বলেন।
গ্রান্ডি বলেন, রাষ্ট্রহীন লোকদের বিরুদ্ধে কয়েকটি দেশের ব্যবস্থা গ্রহণ বেড়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব রাষ্ট্রহীন লোকদের উচ্ছেদ চেষ্টা ঠেকানোর প্রচেষ্টায় মারাত্মক সঙ্কটের কাছাকাছি উপনীত হচ্ছে।
পাঁচ বছর আগেও এ ধরনের লোকদের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির তেমন চেষ্টা ছিল না। তবে এখন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে রাষ্ট্রহীন লোকদের সঙ্কট অবসানের সম্ভাবনা দেখা দিলেও তা কখনো সার্বিকভাবে সঙ্কট অবসানের কাছাকাছিও নেই।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি না ঘটলেও ক্ষতিকর জাতীয়তাবাদের আবির্ভাব এবং উদ্বাস্তু ও অবিভাসনবিরোধী মনোভাবের উদ্ভব, আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় উল্টো আরো ঝুঁকি বাড়ছে।
জাতিসঙ্ঘ উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ২০২৪ সালের মধ্যে রাষ্ট্রহীনতা সঙ্কটের অবসানে ২০১৪ সালে একটি প্রচারণা শুরু করে। রাষ্ট্রহীনদের ওপর বড় ধরনের দুটি প্রবন্ধ রচিত হয়েছে। এ দুটি হলো রাষ্ট্রহীনদের মর্যাদাসংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘ কনভেনশন ১৯৫৪ এবং রাষ্ট্রহীনদের সংখ্যা হ্রাসের ওপর জাতিসঙ্ঘ কনভেনশন ১৯৬১।
প্রচারণার প্রথম পাঁচ মাসে রাষ্ট্রহীন ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি লোক কিরগিজিস্তান এবং কেনিয়া, তাজিকিস্তান ও থাইল্যান্ডে স্থান পেয়েছে।
বিশ্বের প্রথম দেশ কিরগিজিস্তান জুলাই মাসে সব রাষ্ট্রহীন লোকদের বিষয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। মাদাগাস্কার এবং সিয়েরালিয়নে সন্তানের সাথে -মা-বাবার নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান রেখে তাদের নাগরিক আইন সংস্কার করা হয়।
তবে ২৫টি দেশে এখনো এ ধরনের আইন কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব। সারা বিশ্বে রাষ্ট্রহীন নাগরিকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণগুলোর মধ্যে এটি একটি অন্যতম। সব নাগরিকত্ব আইনই জন্ম নেয়া রাষ্ট্রহীন শিশুদের রক্ষাকবচ নয়। রাষ্ট্রহীনতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে পারে।
আজ জেনেভায় অনুষ্ঠিত ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির বিশেষ সেশনে যোগদানকারী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা ২০২৪ সালের মধ্যে রাষ্ট্রহীনতার অবসানে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকে যোগদানকারী অন্যদের মধ্যে জাতিসঙ্ঘ ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা মোহাম্মদ, ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছা দূত ক্যাট ব্লানচিট, ব্রিটিশ টিভি সাংবাদিক এবং উপস্থাপক অনিতা রানী, সাবেক রাষ্ট্রহীন উদ্বাস্তু কর্মী মাহা মামো, জাতীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক ওএসসিই হাইকমিশনার ল্যাম্বার্টো জ্যানিয়ার এবং অন্যরা রয়েছেন।

 


আরো সংবাদ

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলার শুনানি ৪ নভেম্বর ডিএনসিসির জরিপ কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার দায়ে আটক ১ শিবচরে গণ-উন্নয়ন সমিতির কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জবি ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে মুত্তাকী-জাহিন তোলারাম কলেজে কোথায় টর্চার সেল? ‘দ্বীনকে বিজয়ী করতে সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে’ বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি মোজাফফরের জামিন বাতিল জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ তিনজনের জামিন শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইউল্যাব স্কুলে আলোচনা জহুর-তনয় আশফাকের স্মরণসভাসিএনসির বিচারককে প্রত্যাহার দাবি আইনজীবী ফোরাম ও বার সম্পাদকের

সকল