১৫ অক্টোবর ২০১৯

তাড়াইলে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ দুর্নীতির কাছে টিকতে পারছে না সরকারের উন্নয়ন

-

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানকে খুব ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশে উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অবস্থা এগিয়ে গেলেও দুর্নীতির সাথে পাল্লা দিয়ে তা টিকতে পারছে না। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ যে যে দলই করুক না কেন, দুর্নীতি যে করবে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তো আপনারা জানেনই। তবে বর্তমান সরকার একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে যে, সমাজ থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে। আমিও মনে করি, এটি খুব ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আসলে যে হারে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হচ্ছে, দুর্নীতির সাথে পাল্লা দিয়ে তা টিকতে পারছে না। এটাকে এখন ধরতে হবে, এটাকে এখন থামাতে হবে। এটা যেই হোক। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, তার নিজের ঘর থেকে শুরু করতে হবে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ বলুন অর্থাৎ যে যে দলই করুক না কেন, দুর্নীতি যে করবে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমরা দেশকে মোটামুটি দুর্নীতিমুক্ত করতে পারি, তাহলে আমরা অনেক বেশি এগিয়ে যাবো। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই।’
গতকাল বুধবার বিকেলে তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ মাঠে তাড়াইল উপজেলা নাগরিক কমিটি আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তার নিজের ‘ভাটির শার্দূল’ উপাধি পাওয়া প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তাড়াইলে আমার বহুকালের অনেক স্মৃতি রয়েছে। ছাত্রজীবনে সর্বপ্রথম তাড়াইলে আমি জনসভা করেছি। সেটা তাড়াইলের পুরুরা হাইস্কুলে।
তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সাহেবের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের বঙ্গশার্দূল। তোমাদের তাড়াইলও ভাটি, হামিদের বাড়িও ভাটি। সে হলো ‘ভাটির শার্দূল’। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন ‘বঙ্গবন্ধু তখন বঙ্গবন্ধু টাইটেল পাননি, তাকে বঙ্গশার্দূল ডাকা হতো।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই পুরুরা হাইস্কুল মাঠে তখন লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছিল। সেখানে আমি একাই সোয়া দুই ঘণ্টা বক্তৃতা দিয়েছিলাম। মিটিং শেষে যখন রাস্তায় মানুষজনের সাথে দেখা হয়, মুরুব্বিরাও তখন সালাম দেয় আর বলে, ‘ভাটির শার্দূল’ সাব আপনি কেমন আছেন? তখন জানতাম না, ৭০ এ আমি ইলেকশন করব। ৭০ এ যখন ইলেকশন করলাম তখন দেখা গেল, পোস্টারের মধ্যেও একই টাইটেল। তখন আমি অ্যাডভোকেটও হইনি। পোস্টারে লেখা হয়, প্রার্থী ভাটির শার্দূল মো: আবদুল হামিদকে ভোট দিন। এই হয়ে গেলাম ‘ভাটির শার্দূল’। ‘ভাটির শার্দূল’ উপাধিটা আমার তাড়াইল থেকেই পাওয়া, তাড়াইল থেকেই দেয়া, তাড়াইল থেকেই শুরু।’
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য মো: আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্টপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পিপি শাহ আজিজুল হক, তাড়াইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: জহিরুল ইসলাম ভূঞা শাহীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন লাকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ সঞ্চালনায় ছিলেন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক ভূঞা মোতাহার। পরে রাষ্ট্রপতি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নবনির্মিত স্বাধীনতা ৭১ ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি সুধী সমাবেশে যোগ দেন। সুধী সমাবেশ শেষে বিকেলে রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের উদ্দেশে তাড়াইল ত্যাগ করেন। বুধবার থেকে নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে সাত দিনের সরকারি সফরে আসা রাষ্ট্রপতি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাড়াইল ও কিশোরগঞ্জ সদর ছাড়াও তিনি নিজের সাবেক সংসদীয় এলাকার তিন উপজেলা মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রামেও যাবেন।

 


আরো সংবাদ