২৩ অক্টোবর ২০১৯

হজযাত্রী পাঠাতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার সদস্য হতে হবে

সদস্য হতে সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি
-

আগামী বছর থেকে হজকার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে হজ এজেন্সিগুলোকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন-আইএটিএ) সদস্য হতে হবে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এ বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় তিন মাসের মধ্যে এজেন্সিগুলোকে আইএটিএর সদস্য হতে বলেছে। তবে হজ এজেন্সি মালিকেরা বলছেন, হঠাৎ করে এ বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় এজেন্সিগুলোকে বিপাকে পড়তে হতে পারে। বিদ্যমান নিয়মে এ আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাটির সদস্য হতে ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। এ স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেকের পক্ষে এত টাকার সংস্থান করা কঠিন হবে।
এ ব্যাপারে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, সারা বিশে^র জন্য সৌদি সরকার আইএটিএর সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। তারপরও আমরা সৌদি সরকারের সাথে যোগাযোগ করে চেষ্টা করব বিষয়টি এ বছরের জন্য শিথিল করা যায় কি না। কারণ পুরনো নিয়মে এই আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাটির সদস্য হতে হলে সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে সদস্য হতে হবে। অনেক এজেন্সিকে তার সংস্থান করতে বেগ পেতে হবে।
জানা গেছে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় শুধু ওমরাহ এজেন্সিগুলোর জন্য আইএটিএর সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। তা ছাড়া এতদিন হজ এজেন্সিগুলো ট্র্রাভেল এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেই হজযাত্রীদের টিকিট ইস্যু করত। তবে গত দুই বছর ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট হজ এজেন্সিগুলোকে হজযাত্রীর নামে সরাসরি অগ্রিম ইস্যু করার নিয়ম করে দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। সৌদি এয়ারলাইন্স এখন পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা মানেনি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘আইএটিএ’ হলো বিশ^ব্যাপী বিমানে টিকিটিংয়ের জন্য বিমান সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সংস্থা, যার সদস্য হয়ে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো জামানতের টাকার বিনিময়ে অনলাইন সিস্টেমে যাত্রীদের জন্য টিকিট ইস্যু করতে পারে। বছরান্তে আইএটিএর পাওনা টাকা পরিশোধ করলেই হয়। তবে সম্প্রতি এ সংস্থাটি তাদের ব্যবসায়িক নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির তিন ধরনের সদস্য হওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। একটি হচ্ছে গো-লাইট পদ্ধতি; এই পদ্ধতিতে সদস্য হওয়ার জন্য কোনো জামানত লাগবে না। তবে প্রি-প্রেইড পদ্ধতিতে আইএটিএর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে এজেন্সিগুলোকে বিমান টিকিট ইস্যু করতে হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো গো-স্ট্যান্ডার্ড; যেটি পুরনো পদ্ধতির মতো অর্থাৎ ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকা জামানত দিয়ে সদস্য হতে হবে। তৃতীয় পদ্ধতি হলো গো-গ্লোবাল। এ পদ্ধতিতে এক দেশ থেকে সদস্য হওয়ার পর বিশে^র অন্যান্য দেশেও শাখা অফিস স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে।
এ ব্যাপারে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেলস এজেন্সিজ বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি এস এন মঞ্জুর মোরশেদ মাহবুব গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, আগে একটি ট্রাভেল এজেন্সি সরকার থেকে লাইসেন্স নেয়ার পর আইএটিএর সদস্য হয়ে বা না হয়েও হজ ও ওমরাহর জন্য আলাদা আলাদা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারত। এখন যেটা আমরা শুনছি, সৌদি সরকার হজ লাইসেন্সের বিপরীতেও আইএটিএর অ্যাক্রিডিটেশন বাধ্যতামূলক করেছে। তিনি বলেন, আইএটিএ পরিবর্তিত মার্কেটিং পলিসিতে যে তিন ধরনের সদস্য হওয়ার অপশন রেখেছে তা আগামী নভেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশে চালু হবে। এই লক্ষ্যে আগামী ২০ অক্টোবর ঢাকায় আটাবের উদ্যোগে সিঙ্গাপুরস্থ আইএটিএ অফিসের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে রোড শো হবে। তিনি বলেন, গো-লাইট পদ্ধতিতে হজ এজেন্সিগুলো সহজেই সংস্থাটির সদস্য হতে পারবে। তিনি আরো জানান, বিশে^র কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নতুন পদ্ধতি চালু করেছে সংস্থাটি।
এ ব্যাপারে হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। কারণ সৌদি নির্দেশনায় তিন পদ্ধতির কোনোটিতে আইএটিএর সদস্য হতে হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। আমরা যতটুকু জানি সৌদি আরবে গো-স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতিই চালু রয়েছে। নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে সৌদি সরকার অবহিত কি না আমরা নিশ্চিত নই।
হাবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ফরিদ আহমেদ মজুমদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আইইটিএর এ বাধ্যবাধকতা এ সময়ে কেন আরোপ করা হলো আমাদের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ এখনতো এর বাইরে অনলাইনে টিকিট ইস্যু করার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে তিনি জানান, এটি করা খুব কঠিন হবে না। যেহেতু শুধু সদস্য হতে বলেছে সেহেতু গো-লাইট পদ্ধতিতে তিন মাসের মধ্যে সদস্য হওয়া সম্ভব হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় গতকাল সৌদি আরবস্থ দক্ষিণ এশিয়া হাজী সেবা সংস্থার (মোয়াচ্ছাছা) চেয়ারম্যান ড. রাফাত ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম বদর স্বাক্ষরিত একটি চিঠির বরাত দিয়ে এজেন্সিগুলোকে ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ থেকে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আইএটিএর সদস্য হওয়ার জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আরবি ভাষায় লিখিত মোয়াচ্ছাছার ওই চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সদস্য হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ওই সংস্থার সদস্যপদ হালনাগাদ করা কিংবা নতুন সদস্য না হওয়া পর্যন্ত আগামী ১৪৪১ হিজরি অর্থাৎ ২০২০ সালের হজ মৌসুমে হজ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ই-হজ সিস্টেমে ওই মোনাজ্জেমকে (হজ এজেন্সি মালিক) কার্যকর করা সম্ভব হবে না।
হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে দেড় হাজারের বেশি হজ এজেন্সি রয়েছে। তার মধ্য প্রতি বছর প্রায় এক হাজার এজেন্সি হজকার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বর্তমানে হজের নিবন্ধন, বাড়িভাড়াসহ প্রায় সব কার্যক্রমে ই-সিস্টেমে পরিচালিত হয়ে আসছে। তারই অংশ হিসেবে সর্বশেষ এজেন্সিগুলোকে আইএটিএর সদস্য না হলে ই-সিস্টেমে হজ ব্যবস্থাপনার জন্য যোগ্য হিসেবে দেখানো হবে না।

 


আরো সংবাদ