১৭ নভেম্বর ২০১৯

প্রাথমিকের শিশুদের ওপর ব্যাকরণের ভারী বোঝা

-

মূল বইয়ে না থাকলেও ব্যাকরণের ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে প্রাথমিকের বিভিন্ন শ্রেণীর শিশুদের ওপর। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের প্রাথমিক শাখায় এটি করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
যেমন, তৃতীয় শ্রেণীর জন্য সরকারিভাবে পাঠ্যকৃত মূল বইয়ে ব্যাকরণ নিয়ে আলোচনা না থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ বই পাঠ্য করা হয়েছে। ইংরেজি পরীক্ষায় ব্যাকরণ বিষয়ে থাকে অনেক প্রশ্ন। চতুর্থ শ্রেণীর জন্য সরকারিভাবে পাঠ্যকৃত ইংরেজি বইয়ে ব্যাকরণ বিষয়ে সামান্য আলোকপাত করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে চুতর্থ শ্রেণীর জন্যও পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি গ্রামার বই পাঠ্য রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের যে গ্রামার শেখানো হচ্ছে তা এক সময় মাধ্যমিক পর্যায়ে চর্চা করা হতো। চতুর্থ শ্রেণীর গ্রামার বই এবং বিভিন্ন স্কুলের সিলেবাসে গ্রামার অধ্যয়নের বিষয় দেখে ক্ষুব্ধ অনেক অভিভাবক। ইংরেজির মতো প্রাথমিকে বিস্তারিতভাবে পড়ানো হচ্ছে বাংলা ব্যাকরণ।
রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত নামকরা একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ইংরেজি সিলেবাসে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের চিঠিপত্র, প্যারাগ্রাফ, ইংরেজি ডায়লগ থেকে শুরু করে বিস্তারিত গ্রামার। অধ্যয়ন করতে হয় এবং এ বিষয়ে পরীক্ষায় প্রশ্নও আসে।
অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার ইংরেজি সিলেবাস অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীকে যেসব চিঠিপত্র শিখতে হয় তা হলো দাদা-দাদী, পিকনিক, প্রিয় খাবার, নিজ গ্রাম, নিজ স্কুল ও জন্মদিনের পার্টির বিবরণ দিয়ে বন্ধুর কাছে চিঠি লিখন। এ ছাড়া পরীক্ষার প্রস্তুতি জানিয়ে পিতার কাছে চিঠি, সবচেয়ে ভালো বন্ধুর বিবরণ দিয়ে ভাইয়ের কাছে চিঠি লিখন। চতুর্থ শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীকে ইংরেজিতে যেসব প্যারাগ্রাফ শিখতে হয় তা হলো বইয়ের দোকান, ফুলের বাগান, তোমার পরিবার, প্রিয় শখ, প্রিয় খেলা, ক্যালেন্ডার, নিজ গ্রাম, চিড়িয়াখানায় ভ্রমণ।
চতুর্থ শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীকে যেসব ডায়লগ মুখস্থ করতে হয় তা হলো একজন রিপোর্টার ও গার্মেন্ট কর্মীর মধ্যে ডায়লগ, দেশের একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পী সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে ডায়লগ, দোকানদারের সাথে তোমার ডায়লগ, ছুটির দিন কাটানো বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে ডায়লগ। এ ছাড়া দুই বন্ধুর মধ্যে জীবনের লক্ষ্য, খাবারের দোকান, বই ও দৈনন্দিন কাজকর্ম নিয়ে ডায়লগ শিখতে হয়।
এ ছাড়া পার্টস অব স্পিচ ও টেন্স বিষয়ে বিস্তারিতভাবে শিখতে হয়। একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চতুর্থ শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীকে শিখতে হচ্ছে একজন রিপোর্টর ও গার্মেন্ট শ্রমিকের মধ্যে সাক্ষাৎকারের ডায়লগ। এটা কোন ধরনের লেখাপড়া? তিনি বলেন, ইংরেজি মূল বইয়ে একজন গার্মেন্ট শ্রমিক সম্পর্কে একটি গল্প রয়েছে। এরপর নিচে একজন গার্মেন্ট শ্রমিক ও সাংবাদিকের মধ্যে ডায়লগ দেয়া আছে। ডায়লগে আরেকজন গার্মেন্ট শ্রমিকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তা ছাড়া ডায়লগটি শূন্যস্থান আকারে দেয়া আছে। শিক্ষার্থীকে শূন্য স্থান পূরণ করে ডায়লগগুলো সম্পূর্ণ করতে হবে। আর স্কুলের সিলেবাসে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এ ডায়লগসহ আরো অনেক ধরনের ডায়লগ।
এ অভিভাবক বলেন, মূল বইয়ে দু’টি চিঠি উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সিলেবাসে এর বাইরে অনেক চিঠি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তা মুখস্ত করাতে হচ্ছে ছোট শিশুদের।
চতুর্থ শ্রেণীর বাংলায় শেখানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের দরখাস্ত। যেমন বড় বোনের বিয়ে উপলক্ষে ছুটি চেয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে দরখাস্ত, শিক্ষা সফরে যাওয়ার জন্য ছুটি চেয়ে দরখাস্ত, অনুপস্থিতির জরিমানা মওকুফ চেয়ে দরখাস্ত, বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য দরখাস্ত, বই কেনার টাকা চেয়ে দরখাস্ত প্রভৃতি। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চিঠি লিখন। রয়েছে মোবাইল ফোন, বাংলাদেশের পাখি, পোষা প্রাণী, বর্ষাকাল, ষড়ঋতু, বর্ষাকাল প্রভৃতি বিষয়ে রচনা লিখন। এ ছাড়া রয়ছে ব্যাকরণের বিভিন্ন বিষয়।
অনেক অভিভাবক বলেন, চতুর্থ শ্রেণীতে যেসব চিঠিপত্র, রচনা ও ব্যাকরণ পড়ানো হচ্ছে তা তাদের সময় তারা মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়েছেন। কিন্তু এখন তা পড়ানো হচ্ছে চতুর্থ শ্রেণীর শিশুদের, যা ধারণ করার বয়স তাদের হয়নি। অপর দিকে পঞ্চম শ্রেণীতে যে ব্যাকরণ পড়তে হচ্ছে তা পুরোপুরি এসএসসি পর্যায়ের বলে জানান অনেক অভিভাবক।


আরো সংবাদ