১৭ নভেম্বর ২০১৯

বারডেমে আগামী মাস থেকে নিয়মিত লিভার প্রতিস্থাপন হবে

-

আগামী মাস থেকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্লান্ট (প্রতিস্থাপন) হবে। ইতোমধ্যে বারডেমে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিশেষ অপারেশন থিয়েটার (ওটি) করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা: এ কে আজাদ খান জানান, বারডেম হাসপাতালই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সফল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। প্রথম সফল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে বলে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে। এর মধ্যেই আমাদের চিকিৎসকেরা আরো প্রশিক্ষিত হয়েছেন লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: মো: শাহীনুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, বাংলাদেশে কয়েক হাজার মানুষের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা প্রয়োজন। এ সংখ্যাটা ১০ হাজারের কম হবে না। সচ্ছল পরিবারের মানুষ ট্রান্সপ্লান্ট করতে বিদেশ চলে যান। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার জন্য বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়েছে। আমরা হয়তো খুব শিগগিরই কিডনি অথবা ওপেন হার্ট সার্জারি করার মতো অহরহ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে পারব।
উল্লেখ্য, বারডেম হাসপাতালে এ পর্যন্ত দুইটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয়। এর মধ্যে একজন লিভার গ্রহীতা মারা গেছেন। আরেকজন এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। তিনি মালয়েশিয়ায় চাকরি করছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। অপর একজনকে মামলার কারণে জেলে যেতে হয়েছিল। জেলে যাওয়ায় তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতে পারেননি বলে লিভার বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা গেছে। পরে বারডেম কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে আবেদন করলে সরকার সেই লিভার গ্রহীতাকে মুক্তি দেয়। কিন্তু জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পর সেই লিভার গ্রহীতা মারা যান। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জেলে থাকার সময় ওষুধ সেবন করতে না পারায় প্রতিস্থাপন করা লিভারে সমস্যা দেখা দেয় এবং তিনি মারা যান।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আরেকটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার চেষ্টা করা হয় রাজধানীর আরেকটি মধ্যমানের হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের লিভার ট্রান্সপ্লান্টটি সফল হয়নি। মারা গেছে লিভার গ্রহীতা। পরে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার চেষ্টা করেনি।
বাংলাদেশে সর্বশেষ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। চলতি বছরের ২৪ জুন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার সিরাতুল ইসলামের (২০) সফল লিভার প্রতিস্থাপন করা হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগ। সিরাতুলের মা সিরাতুলকে লিভার দান করেন। সিরাতুল ও তার মা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে চলতি বছরের ১৭ জুলাই বাড়ি চলে যান। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সিরাতুল ইসলাম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৭ আগস্ট মারা যান।
গত আগস্টে ঈদুল আজহার আগের দিন রাতে সিরাতুল খিঁচুনি দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। ১২ আগস্ট সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয় তাকে। ব্রেইনের সিটি স্ক্যান করা হলে ব্রেইন স্ট্রোক ধরা পড়ে। আবার ১৫ আগস্ট এমআরআই করা হয়। পরে ১৭ আগস্ট সিরাতুল মারা যান। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সিরাতুল ইসলামের প্রতিস্থাপিত লিভারে কোনো সমস্যা ছিল না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিল বলে ডেঙ্গু কাবু করে ফেলে এবং ব্রেইন স্ট্রোক হয়ে যায়। সেখান থেকে আর তাকে বাঁচানো যায়নি।
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন সহযোগি অধ্যাপক ডা: মো: সাইফ উদ্দীন লিভার দেহের এমন একটি অঙ্গ যা কেটে নিয়ে গেলে কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। আবার লিভার গ্রহীতার দেহে লাগানোর পর উপযুক্ত পরিবেশে তা-ও একটি পর্ণাঙ্গ লিভারে পরিণত হয় এবং স্বাভাবিক কাজ করতে শুরু করে।


আরো সংবাদ