২১ নভেম্বর ২০১৯

থেমে আছে আইন প্রণয়ন বিচারক নিয়োগ অব্যাহত

-

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নকার্যক্রম থেমে আছে। কিন্তু থেমে নেই নিয়োগ। এর অংশ হিসেবে সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগে ৯ জন এবং এর আগে গত বছরের ৩০ মে ১৮ বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষাপটে প্রায় দুই বছর আগে আইনটির খসড়া প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগকে প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়ে ২০১৭ সালের মে মাসের মধ্যে আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করার টার্গেটও দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে খসড়াটি তৈরি করা হয়। বিচারক নিয়োগে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপন করার সিদ্ধান্ত থাকলেও গত দুই বছরের অধিক সময়ে এর কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ এড়াতে সরকারের নীতিনির্ধারণের একটি অংশ চায় আইনটি প্রণীত হোক। আর অপর অংশ চায় না এ আইন হোক। এই টানাপড়েনের ফলে ইতোমধ্যে আইন প্রণয়নকার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল। আইনটির খসড়া চূড়ান্ত না করতেই এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ আইনটি আদৌ প্রণয়ন করা হবে কি না এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জুডিশিয়াল অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দিয়ে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। নতুন এই আইনের খসড়া প্রণয়নের কার্যক্রমে বলা হয়, বিচারক নিয়োগের জন্য গঠন হবে একটি কমিশন। এ কমিশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, সরকার, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সুশীলসমাজের একজন করে প্রতিনিধি রাখার বিধানটি ছিল। নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশন প্রার্থীর মাপকাঠি নির্ধারণ করবে। নিয়োগের জন্য যারা প্রার্থী হবেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি জুডিশিয়াল বিষয়ে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাই প্রাধান্য পাবে এমন বিধানও উল্লেখ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই আইনটি চূড়ান্ত করে ক্যাবিনেটের মুখ দেখেনি।
এ দিকে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা আছে, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ দেবেন। সংবিধান অনুযায়ী আইন পেশায় ১০ বছর মেয়াদ বা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার পদে ১০ বছর অতিবাহিত হলেই হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ করা হয়।
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো আইন বা নীতিমালা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আইনজ্ঞ সুশীলসমাজসহ নানা মহলে আইন করার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন কমিশনও ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রেরণ করে।
কমিশনের সুপারিশেও বলা হয়, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটির মাধ্যমে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের বিচারপতি পদে নিয়োগ দিতে। উচ্চ আদালতে বিচারপতি পদে নিয়োগে কমপক্ষে ৫০ বছর বয়স এবং অবসর গ্রহণের বয়স ৭৫ বছর নির্ধারণ করলে অভিজ্ঞ বিচারক দক্ষতার সাথে অধিক সময় বিচারিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন। সুপারিশে আরো বলা হয়, বিচারকদের যোগ্যতা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে অন্যূন ২০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে প্রকৃত কার্যকাল, অথবা বিচার বিভাগে অন্যূন ২০ বছর প্রকৃত বিচারিক দায়িত্ব পালন এবং এর মধ্যে অন্তত তিন বছর জেলা জজের প্রকৃত দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে সুপারিশে উল্লেখ করা হয়।
এ দিকে গত ১৭ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সংবিধানের ৯৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিলের রায়ের আলোকে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করে বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
অন্য দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেছেন, নীতিমালা তো সংবিধানের ওপরে যাবে না। নীতিমালাতো আইনও নয়। নীতিমালার তো বাউন্ডিং ইফেক্টও নেই। সংবিধানে বিধান স্পষ্ট রয়েছে। নীতিমালা কেন? আইন হতে পারে। নীতিমালাতো সংবিধানকে সুপারসিড করতে পারবে না।

 


আরো সংবাদ