১৮ নভেম্বর ২০১৯

ব্রিটিশ শাসন না এলে ভারত ভাগ হতো না ভিসি হারুন

-

ব্রিটিশ শাসন না এলে ভারত ভাগ হতো না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন অর রশীদ। কংগ্রেসের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা দলটিকে ভারত ভাগে উৎসাহিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে ‘লুকিং ইনটু দ্য পাস্ট ফর এ ফিউচার : শেয়ার্ড হিস্টোরি অব ইন্ডিয়াস নর্থ ইস্ট উইথ বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হারুন অর রশীদ বলেন, ভারত ভাগের জন্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে দায়ী করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তারাই বরং ভারতকে বিভক্ত করার হাত থেকে রক্ষার জন্য কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ভারত বিভক্তির জন্য প্রথমত দায়ী হচ্ছে ব্রিটিশ শাসন বা ব্রিটিশ কলোনিয়াল ব্যবস্থা। ব্রিটিশরা আমাদের শাসন না করলে হয়তো ভারত বিভক্ত হতো না। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে কংগ্রেস ভারত বিভক্তিতে সব থেকে বেশি অ্যাডভোকেসি করেছে। নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব থেকেই তারা এমনটা করেছে। তবে ভারত ভাগের সিদ্ধান্তও ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, একটি দারুণ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পেছনের ইতিহাস দেখতে হবে। এতে করে আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ক ও সমঝোতা আরো বাড়বে। ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগে আমাদের এ ইতিহাস অনেক সাহায্য করে। ইতিহাস জানতে এ ধরনের কর্মশালা, সেমিনার এবং পারস্পরিক ভ্রমণ জরুরি।
এশিয়াটিক সোসাইটি এবং আসামের অমিয় কুমার দাস ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করেছে। এতে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ভূপেন শর্মা। সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন এশিয়াটিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মাহফুজা খানম। দু’দিনের আয়োজনে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ১০ জন শিক্ষক ও গবেষক বিষয়ের আলোকে নিজেদের লেখা তুলে ধরবেন।
সেমিনারে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ইতিহাস বিশেষ করে বাংলাদেশের সাথে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর যে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক এবং মিলিত ইতিহাস আছে সে বিষয়ে বক্তব্য দেবেন অতিথিরা। এ ছাড়া সীমান্তের ওপারে থাকা মানুষদের সাথে বাংলাদেশের কি সম্পর্ক সে বিষয়ও তুলে ধরা হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব এবং সামাজিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 


আরো সংবাদ