১৮ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ

-

ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি শশাঙ্ক ভূষণ পাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর মৌজার ‘ক’ তালিকাভুক্ত ছোট গোবিন্দপুর ইয়ূথ ক্লাবের নামে লিজ নেয়া ২২ শতাংশ সরকারি সম্পত্তি স্থানীয় মধু হালদার ও সুকুমার হালদার নামে দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ক্লাবের নামে লিজ নেয়া যে সম্পত্তি তা সরকারি। সরকারের কাছে ন্যস্ত না করে অন্যত্র বিক্রি করেছেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ওই ক্লাবের সভাপতি শশাঙ্ক ভূষণ পাল চৌধুরী। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
নাম না বলার শর্তে স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকজন নয়া দিগন্ত প্রতিনিধিকে জানান, ছোট গোবিন্দপুর মৌজার ‘ক’ তালিকাভুক্ত এসএ ৯৩১, ৯১৬, ৯৪৮, ৯৫৫, ৯৪৯, ৯৬৯ দাগের মোট ৩০৫ শতাংশ জমি ছোট গোবিন্দপুর ইয়ূথ ক্লাবের নামে রয়েছে। যার ভিপি কেস নং ৮/৮৪, তারিখ ১৮/১২/৮৪ইং মূলে সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে লিজ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে খাজনাদি পরিশোধ করে আসছে ছোট গোবিন্দপুর ইয়ূথ ক্লাব। লিজ নেয়ার সময় জমিটি পুকুর ছিল। পরে মাটি ভরাট করে ভূমি অফিস থেকে জমিটির শ্রেণী পরিবর্তন করেন ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও ক্লাব সভাপতি শশাঙ্ক ভূষণ পাল চৌধুরী। পরে সেই লিজকৃত ৩০৫ শতাংশ জমি থেকে স্থানীয় মধু হালদারের কাছে ১১ শতাংশ এবং সুকুমার (সুকু দর্জি) হালদারের কাছে আরো ১১ শতাংশ মোট ২২ শতাংশ জমি ক্ষমতার বলে বিক্রি করেছেন। দেখা যায়, সেই ২২ শতাংশ জমিতে মধু হালদার ও সুকুমার হালদার দুই দিকে ঘেরাও করে প্রাচীর নির্মাণও করে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে মধু হালদার বলেন, ক্লাব সভাপতি শশাঙ্ক ভূষণ পাল চৌধুরীর ১১ শতাংশ জমি বিক্রির প্রস্তাব দিলে আমি রাজি হই এবং পরবর্তী সময়ে কাগজপত্র সব আমার নামে ঠিক করে দেবে বলে ক্লাবের কর্তা ব্যক্তিরা আমাকে আশ্বাস দেন।
সুকুমার হালদার (সুকু) দর্জির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ও মধু হালদার মিলে ২২ শতাংশ সম্পত্তি ক্লাবের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। তবে শর্তসাপেক্ষে আমাদের নামে কাগজপত্র সব ঠিক করে দিলে তবেই আমরা পুরো টাকা পরিশোধ করব।
এ বিষয়ে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অপন কুমার হালদার বলেন, ক্লাবের সভাপতি কাউকে না জানিয়ে লিজ সম্পত্তি থেকে ২২ শতাংশ জায়গা স্থানীয় দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। হস্তান্তরের সময় আমাকে স্বাক্ষর করতে বললে আমি তা করব না। কারণ সরকারি সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রি করা অন্যায়। আমি এ অন্যায় করতে পারব না।
ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ফারুক বলেন, ক্লাবের জমি বিক্রির বিষয় নিয়ে সভাপতি শশাঙ্ক ভূষণ পালের কাছে প্রতিবাদ করতে গেলে একপর্যায়ে আমার সাথে তার হাতাহাতি হয়। পরে সভাপতি আমার নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি বিধায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে যা ইচ্ছা তাই করছেন। বাধা দিতে গেলে গ্রুপের মধ্যে ফেলে দেন। সভাপতি গোপনে সরকারি জমিটা বিক্রি করে টাকা আত্মসাধের চেষ্টা করছেন। প্রতি শতাংশ জমি এক লাখ ৪০ হাজার টাকা ধরে বিক্রি করেছেন বলে তিনি জানান।
ক্লাবের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক তুষার আহমেদ জুসা বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে শশাঙ্ক ভূষণ পাল চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে সভাপতির পদ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। ক্লাবের অন্য কর্মকর্তাদের তিনি তোয়াক্কা করেন না। ক্ষমতার অপব্যবহার করে যা খুশি তাই করছেন। কেউ তার অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে তাকে ক্লাব থেকে বহিষ্কার ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন। তিনি গোপনে ক্লাবের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার সাথে একশ্রেণীর জমির দালালদের সখ্য রয়েছে, যাদের মাধ্যমে তিনি এসব অপকর্ম করে থাকেন। ইতোমধ্যে ক্রেতারা ওই সম্পত্তির ওপর প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। সভাপতির অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি আমাদের বিএনপির কর্মী বানিয়ে অপবাদ দেন। তার ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ছোট গোবিন্দপুর ইয়ূথ ক্লাবের সভাপতি শশাঙ্ক ভূষণ পাল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি আমি অন্যত্র বিক্রি করতে পারি না। আমার সেই ক্ষমতা নেই। ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ফারুক একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তাকে বিভিন্ন অপরাধের কারণে ক্লাব থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। ২২ শতাংশ জমিতে দেয়ালের বিষয়ে বলেন, প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি ক্লাবের জমির সীমানা কোথায়। পরে আমরা মাপজোখ করে দেখি মধু হালদারের রান্নাঘর পর্যন্ত আমাদের জমি রয়েছে। তবে যেকোনো দিন যারা দেয়াল দিয়েছে তাদের ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেব।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি ভূমি অফিস থেকে এক সনের জন্য লিজ দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর খাজনা আদায়ের মাধ্যমে তা নবায়ন করা হয়। লিজকৃত সম্পত্তি বিক্রির কারো এখতিয়ার নেই। যদি কেউ করে থাকে তদন্তে প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, এ ব্যাপারে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে এসি ল্যান্ড সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিন তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রমাণ মিললে ক্লাবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


আরো সংবাদ