১৮ নভেম্বর ২০১৯

এ বছর প্রাক নিবন্ধন বাতিল করেছেন ৩ হাজার হজযাত্রী ফেরত দেয়া হলো ৮ কোটি টাকা

-

এ বছর ২৫৯টি এজেন্সির তিন হাজার হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন বাতিল করে; যাদের নিবন্ধন ফির প্রায় আট কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
ওই সময় নেয়া জনপ্রতি ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা থেকে সার্ভিস চার্জের পাঁচ হাজার টাকা রেখে ২৫ হাজার ৭৫২ টাকা ফেরত দেয়া হয়। এ টাকা সৌদি মোয়াল্লেম ফির জন্য নেয়া হয়।
রিফান্ডের ইস্যুকৃত চেক এজেন্সি অথবা হজযাত্রীর ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তরের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে এ বছরের এপ্রিল মাসে ১১৬টি এজেন্সির এক হাজার ৩৯৪ জন, মে মাসে ১০২টি এজেন্সির এক হাজার ৩০১ জন ও জুন মাসে ৪১টি এজেন্সির ২৯৯ জনসহ সর্বমোট ২৫৯টি এজেন্সির দুই হাজার ৯৯৪ জন হজযাত্রী তাদের প্রাক নিবন্ধন বাতিল করে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে দুটি এজেন্সির ৮০ জনের ২০ লাখ ৬০ হাজার ১৯০ টাকা পৃথক পৃথক চেকে ফেরত দেয়। গত ২৩ অক্টোবর এক সাথে বাকি ২৫৭টি এজেন্সির অধীন দুই হাজার ৯১৪ জনের অনুকূলে সাত কোটি ৫০ লাখ ৪১ হাজার ৩২৮ টাকার ২৫৭টি চেক ইস্যু করে যা সংগ্রহ করার জন্য গতকাল এজেন্সিগুলোকে নোটিশ পাঠিয়েছে।
নোটিশে এজেন্সির নাম, প্রাক-নিবন্ধন বাতিলকারী হজযাত্রীর সংখ্যা, তাদের মোট টাকার পরিমাণ ও ইস্যুকৃত চেকের নম্বর উল্লেখ করা হয়। হজ সার্ভিস চার্জ পেঅ্যাবল টু সৌদি গভর্নমেন্ট শিনোনামের ০০০২৩৩০৯৪৫৮৬ হিসাব নম্বর থেকে এসব চেক ইস্যু করা হয়েছে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার জন্য এজেন্সির মাধ্যমে ব্যাংকে নির্ধারিত ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা জমা দিয়ে সারা বছর অনলাইনে প্রাক নিবন্ধন করা যায়। একইভাবে সরকারি ব্যবস্থাপনায়ও করা যায়। পরবর্তীতে কোনো প্রয়োজনে এজেন্সি পরিবর্তন করতে চাইলে সেই সুযোগও দেয়া হয়।
প্রাক নিবন্ধনের পর কেউ হজ অফিসে আবেদনের ভিত্তিতে বাতিল না করলে একবারের নিবন্ধন দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষমাণ থাকে। অর্থাৎ কেউ ২০১৯ সালে হজে যাওয়ার আগে প্রাক নিবন্ধিত হওয়ার পরও সিরিয়ালে না আসা বা অন্য কোনো কারণে হজে যেতে না পারলে তিনি পরবর্তী বছর ২০২০ সালের অগ্রবর্তী সিরিয়ালে থাকবেন। তবে কেউ চাইলে যেকোনো সময় তার প্রাক বিন্ধন বাতিল করতে পারেন। প্রাক নিবন্ধন ফি দুই হাজার টাকা এবং সার্ভিস ফি তিন হাজার হাজার টাকা রেখে বাকি টাকা ফেরত দেয়া হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুাযী ২০২০ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় অপেক্ষমাণ প্রাক নিবন্ধিত হজযাত্রী চার হাজার ৩৭২ জন এবং বেরসকারি ব্যবস্থাপনার দুই লাখ দুই হাজার ৮২৭ জন।
আইটি ফার্ম নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করায় গত ১ নভেম্বর থেকে প্রাক নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য হজের কোটা ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। হজ পালন করেছেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন (ব্যবস্থাপনাসহ)। ধর্ম মন্ত্রণালয় ২০২০ সালে বাংলাদেশ হজযাত্রীর কোটা আরো ২০ হাজার বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।


আরো সংবাদ