০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

এক কেজি পেঁয়াজে লাখ টাকার হাসি

পেঁয়াজের জন্য ছেলেকে কোলে নিয়ে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে সাফল্য : নয়া দিগন্ত -

কোলে তার দেড় বছরের ছেলে। অন্য হাতে এক কেজি পেঁয়াজের ছোট একটি পলিথিনের পোঁটলা। অথচ চোখেমুখে বিশ্বজয়ের হাসি। কারণ দীর্ঘ দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে সমর্থ হয়েছেন শিমু। যদিও ৪৫ টাকায় টিসিবির এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে এ গৃহিণীকে।
শিমু আক্তার নয়া দিগন্তের এই প্রতিবেদককে জানান, সকালে বাসায় নাস্তা তৈরি না করেই ছেলেকে নিয়ে এখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। রোদের তাপে শিমুর কোলের শিশুটির চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। তারপরেও পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরছেন, এতেই খুশি তিনি। শিমু জানান, পরিবার নিয়ে সেগুনবাগিচায় থাকেন তিনি। স্বামী কম বেতনের ছোট চাকরি করেন। টানাটানির সংসারে কম দামে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে পেরে মহাখুশি তিনি।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের পূর্ব পাশের সচিবালয় লাগোয়া রাস্তায় টিসিবির নির্ধারিত ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে শত শত নারী-পুরুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পল্টন প্রেস ক্লাবের সামনের প্রধান রাস্তা থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা নারী-পুরুষের পৃথক দু’টি লাইন দক্ষিণে বিদ্যুৎ ভবন পার হয়ে আব্দুল গনি রোডও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সকাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ এ লাইন দুপুর ১২টায়ও শেষ হচ্ছিল না। বরং ক্রমেই আরো দীর্ঘ হচ্ছে সে লাইন।
পেঁয়াজ কেনার জন্য ছোট ছেলেকে কোলে নিয়েই সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন শিমু আক্তার। সকালের দিকে প্রথমে প্রত্যেককে দুই কেজি করে পেঁয়াজ দেয়া হলেও লোকজনের চাপ বাড়তে থাকায় পরে পরিমাণ কমিয়ে প্রতিজনকে এক কেজি করে পেঁয়াজ দেয়া হয়। তবুও লোকজনকে সামাল দেয়া কষ্ট হচ্ছিল টিসিবির তিন বিক্রয়কর্মীর।
ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রির কাজে দেখা গেছে, টিসিবির বিক্রয়কর্মী ইকবাল পাল্লায় এক কেজি করে পেঁয়াজ ওজন করছেন, পলাশ টাকা নিচ্ছেন আর নুরুজ্জামান পেঁয়াজ প্যাকেটে করে এগিয়ে দিচ্ছেন। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও অনেকে ভিড়ের এবং খুচরা টাকা না থাকায় ৫০ টাকা দিয়েই পেঁয়াজ নিয়ে চলে যাচ্ছেন। আবার যারা ৪৫ টাকা খুচরা নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারা ন্যায্যমূল্যেই পেঁয়াজ কিনছেন।
লাইনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আগে পিছে দাঁড়ানো নিয়ে মাঝেমধ্যেই পরস্পরের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে যাচ্ছে। পেঁয়াজ কিনতে আসা নারী-পুরুষের দু’টি পৃথক লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। পুরুষদের লাইনটি তুলনামূলক বেশি দীর্ঘ।
সকাল থেকেই টিসিবি তাদের নির্ধারিত ট্রাকে করে এখানে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। বিক্রয়কর্মীরা জানান, আজকের জন্য তাদের মজুদ এক হাজার কেজি পেঁয়াজ। সকাল থেকে প্রতিজনকে দুই কেজি পেঁয়াজ দেয়া হয়েছে। তবে লোকজনের চাপ ও চাহিদা বেশি হওয়ায় বেলা ১১টার পর থেকে প্রতিজনকে দুই কেজির পরিবর্তে এক কেজি করে পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে। নির্ধারিত এক হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি শেষ হলে দিনের মতো বিক্রি বন্ধ থাকবে। আগামীকাল আবার বিক্রি করা হবে।
টিসিবির পেঁয়াজ কিনতে আসা লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল তাদের বেশির ভাগের বাসা সেগুনবাগিচা, তোপখানা রোড, পুরানা পল্টন ও চানখারপুল এলাকায়। বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছেÑ এমন সংবাদেই তারা এখানে এসে সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

 


আরো সংবাদ