১২ ডিসেম্বর ২০১৯
মানিলন্ডারিং নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে

-

মানিলন্ডারিং নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি এখন আর শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়। এটি এখন মানবিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বৈশ্বিক এই সমস্যা মোকাবেলায় সব দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমস্যা মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ, জাতি ও সমাজ একযোগে কাজ করতে হবে।
গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রণীত জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৯-২০২১’ শীর্ষক সেমিনারটিতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইউনিটের (বিএফআইউ) প্রধান কর্মকর্তা আবু হেনা মো: রাজী হাসান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সেমিনারে দেশী, বিদেশী বক্তা ও কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থায়ন করে একটি দেশকে, দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। একটি দেশকে দেশের মানুষকে মেরে ফেলার জন্য মানিলন্ডারিংই যথেষ্ট। তাই এ বিষয়টি গুরুত্ব¡সহকারে বিবেচনা করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা আশা করব বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো আমাদের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোকে ভালোভাবে বুঝতে পারছেন। আমরা পশ্চিমা বিশ্বের একটি রাষ্ট্রকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি, সে দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা ধর্মীয় মূল্যবোধের অপব্যবহার করে টাকা সংগ্রহ করে বাংলাদেশের জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ উসকে দিচ্ছে। আমরা শত চেষ্টার পরেও সে দেশকে তা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু তারা এখন উপলব্ধি করতে পেরেছে। তবে এটি অনেক আগে হলে আমরা অনেক ক্ষতি সামাল দিতে পারতাম।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন বর্তমান বিশ্বের একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা দিনদিন বাড়ছে। এই সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট সচেতন রয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিদেশে অর্থপাচার ঠেকাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে বা দুদকের পক্ষে এককভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় সব সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করতে হবে। অর্থপাচারের বড় অংশই হচ্ছে বাণিজ্যের মাধ্যমে। আমদানি-রফতানিতে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে বেশ কয়েক বছর ধরে ট্রেড বেইস মানিলন্ডারিং হচ্ছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো: মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসের অর্থায়ন বন্ধ করতে হলে দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সরকারি সব এজেন্সিকে একযোগে কাজ করতে হবে।

 


আরো সংবাদ