১০ ডিসেম্বর ২০১৯
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা

সম্রাট ও আরমানকে ৬ দিন করে রিমান্ড

-

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও ক্যাসিনো গুরু হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সম্রাটকে ছয় দিনের ও আরমানকে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জামিন নামঞ্জুর করেন।
গত ১৪ অক্টোবর সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দু’টি মামলা করে র্যাব। সে দিন থেকে সম্রাট কারাগারে আটক আছে। এ অবস্থায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা হয়। গত ১২ নভেম্বর কমিশনের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ আছে তিনি মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। অনেক সময় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া তার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে এক হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর সম্রাটকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে র্যাব।
এ দিকে ১২ নভেম্বর দুই কোটি পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-ঢাকা ১ এ আরমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো: সালাহউদ্দিন। ২৭ অক্টোবর গুলশানের মাদক মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে র্যাব। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১ এর উপপরিদর্শক আব্দুল হালিম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার সেই দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ১২ নভেম্বর দুই কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মো: সালাহউদ্দিন। ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আটক করে র্যাব। পরে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। এখন তিনি কারাগারে আছেন।
অন্য দিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে আনার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল পাগলা মিজানের পক্ষে, ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এ দিন সকালে পাগলা মিজানকে কারাগার থেকে এনে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানির আগে দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। দুই পুলিশের ওপর ভর করে তাকে আদালতে যেতে দেখা হয়। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। পাগলা মিজানের পক্ষে অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান আদালতকে বলেন, আসামি বয়স্ক, অসুস্থ। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে আনানেয়া এবং সুচিকিৎসার প্রার্থনা করছি। আদালত অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে আনানেয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং কারাবিধি অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসা দেয়ার আদেশ দেন। আদালত পাগলা মিজানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর আবার দুই পুলিশের ওপর ভর করে পাগলা মিজানকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যেতে দেখা যায়। গত ৬ নভেম্বর পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন দুদক উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। মামলায় মিজানের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।


আরো সংবাদ