১২ ডিসেম্বর ২০১৯

স্কুলের পরীক্ষায়ও টানা রুটিনে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী অভিভাবক

-

পাবলিক পরীক্ষার মতো রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের পরীক্ষায়ও বন্ধ কমিয়ে আনা হয়েছে। কোনো কোনো শ্রেণীর পরীক্ষার রুটিনে দেখা যায় সাপ্তাহিক শুক্রবার ছাড়া আর তেমন কোনো বন্ধ নেই। বিভিন্ন স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায় বিভিন্ন স্কুলে প্রাথমিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য একদিন করে বন্ধ রাখা হলেও মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণীতে প্রায় টানা পরীক্ষা গ্রহণের রুটিন করা হয়েছে।
রাজধানীর বনশ্রীতে অবস্থিত একটি স্কুলের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে গণিতের আগে একদিন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শুক্রবারের কারণে বিজ্ঞানের আগে একদিন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো বন্ধ নেই। ষষ্ঠ শ্রেণীর ১০টি বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে মাত্র ১২ দিনে।
নবম শ্রেণীর রুটিন আরো কঠিন করা হয়েছে। শুক্রবার ছাড়া আর কোনো বন্ধ রাখা হয়নি। তবে মানবিকের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি রয়েছে । বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার দিন তাদের জন্য বিরতি রাখা হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার যে রুটিন করা হয়েছে তাতে শিক্ষার্থীদের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নবম শ্রেণীতে সব বিভাগের পরীক্ষার্থীর জন্য টানা ছয় দিন ছয়টি পরীক্ষা রাখা হয়েছে। এরপর শুক্রবার একদিন বিরতির পর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আবার চারটি বিষয়ের পরীক্ষা রাখা হয়েছে।
একজন অভিভাবক জানান, তার দুই ছেলে-মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। একজন দ্বিতীয় শ্রেণীতে আরেকজন ষষ্ঠ শ্রেণীতে। আগামীকাল শনিবার থেকে দুই ছেলে-মেয়ের একসাথে পরীক্ষা শুরু হবে এবং দু’জনকেই তার পড়াতে হয়। এ অবস্থায় পরীক্ষার মাঝে কম বন্ধ থাকায় তার বিপদ আরো বেড়েছে, বিশেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণীর সন্তানের পরীক্ষায় বন্ধ মাত্র দুই দিন।
১০টি বিষয়ে পরীক্ষায় প্রথমে চার দিন টানা পরীক্ষা। এরপর দুই বিষয়ে একদিন করে বন্ধ রয়েছে। আবার শেষের চারটি বিষয়ে রয়েছে টানা পরীক্ষা। এত ছোট শিশুর জন্য এভাবে টানা পরীক্ষা খুবই পীড়াদায়ক। ষষ্ঠ শ্রেণীতে ১০টি বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হলেও সারা বছর তাদের ১৪টি বিষয়ে ক্লাস ও পড়ালেখা করতে হয়েছে। তা ছাড়া পড়ার পরিমাণ এত ব্যাপক যে সারা বছর নিয়মিত পড়ালেখা করলেও অনেকের পক্ষে সব বিষয় আয়ত্তে আনা সম্ভব নয়। আর সারা বছর যতই পড়ালেখা করুক না কেন পরীক্ষার আগে যদি ঠিকমতো একটু দেখে যেতে না পারে তাহলে সারা বছর পড়ে কী লাভ হলো। কারণ অনেক দিন আগের পড়া তো দীর্ঘদিন মনে থাকে না। কিন্তু টানা পরীক্ষার রুটিনের কারণে আগের পড়া বিষয়ও দেখার সুযোগ হয় না পরীক্ষার আগে। এমনকি টানা পরীক্ষার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষনস ক্লান্ত হয়ে পড়ে শিশুরা।
এ অভিভাবক জানান, সব শ্রেণীতে প্রতিটি পরীক্ষার আগে কম পক্ষে একদিন ছুটি রাখা উচিত অবশ্যই। আর গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে কমপক্ষে দুই দিন ছুটি রাখা উচিত।
এ অভিভাবক জানান, তবু এবার ভাগ্য ভালো যে, তার দ্বিতীয় শ্রেণীর সন্তানের পরীক্ষার রুটিনে প্রতি বিষয়ে একদিন করে বন্ধ রাখা হয়েছে। তার ষষ্ঠ শ্রেণীর সন্তান যখন প্রাইমারিতে ছিল তখন এভাবে তার ক্ষেত্রে বন্ধ ছিল না। প্রাথমিকের অনেক শ্রেণীতেও টানা পরীক্ষা নেয়া হতো আগে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রায় বিরতিহীনভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে শিশুদের সমাপনী পরীক্ষা। এ বছর ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা আর চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। শুধুমাত্র গণিতের আগে দুই দিন বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি পাঁচটি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে বিরতিহীনভাবে।
পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী থেকে শুরু করে এইচএসসি পর্যন্ত চারটি পাবলিক পরীক্ষার রুটিনে দেখা যায় পরীক্ষার মাঝে বন্ধের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে আগের তুলনায়। যেমন গত বছর জেএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় ১৫ দিনে। এবার গ্রহণ করা হয়েছে ১০ দিনে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ বছর এইচএসসি লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় এক মাস ১১ দিনে। আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এক মাস ৪ দিনে। একইভাবে কমানো হয়েছে আগামী এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সময়। পূর্বে যেখানে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলত এসএসসি পরীক্ষা বর্তমানে সেটা কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ২২ দিনে।

 

 


আরো সংবাদ