১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ বিমানে

পারফরম্যান্স দেখে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে : এমডি
-

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল ও ফাইন্যান্সসহ বিভিন্ন শাখায় কর্মচাঞ্চল্য ফেরাতে কিছু দিন ধরেই চলছে শুদ্ধি অভিযান। এরই অংশ হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতি এবং অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে বদলির কার্যক্রম শুরু হয়। পাশাপাশি প্রতিটি শাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি দেয়ার কার্যক্রম চলছে। তবে এই পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে বিমানের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কৌশলে আড়াল করে সেসব জায়গায় জুনিয়রদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এতে বিমানের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিমানের বলাকা ভবন ও অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যারা যোগ্য এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ তাদের কাজের মূল্যায়ন অবশ্যই করতে হবে। সম্প্রতি বিমান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিভাগের বেশ কিছু কর্মকর্তাদের ইন্টারভিউ নিয়ে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে ধরনের কৌশল নিয়েছেন, তাতে কাজের গতি বাড়ার পরিবর্তে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা বেশি রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো: মোকাব্বির হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, এবার বিমানে যাদেরকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাদের পারফরম্যান্স দেখেই দেয়া হয়েছে। ইন্টারভিউ বোর্ডে আমিসহ যে (সব) ৯ জন পরিচালক ছিলাম তারা কেউ কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দে বাদ পড়েননি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইন্টারভিউ বোর্ডে সিনিয়র জুনিয়র দেখে কোনো পদোন্নতি দেয়া হয়নি। এর পরও যদি কেউ বাদ পড়েন তাহলে তারা দরখাস্ত দিতে পারেন। তখন ওই কর্মকর্তা কী কারণে বাদ পড়েছেন সেটা আমি তাকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিতে পারব। আগে তো পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হতো না। এবারের পদোন্নতি নিয়ে বিমানের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের অসন্তোষ দেখা দিতে পারে কি না এমন প্রশ্নের উত্তর সরাসরি তিনি নাকচ করে বলেন, যে ভালো পারফর্ম করতে পারবে তাকে আমি নেবো। সিনিয়রিটি একমাত্র ক্রাইটেরিয়া না। সিনিয়রিটি দেখে আমরা ডাকছি।
জানা গেছে, ৬ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক থেকে ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতির জন্য প্ল্যানিং, ফাইন্যান্স, মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস, প্রক্রিয়রমেন্ট, প্রকৌশল, অপারেশন ও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য গঠিত বোর্ডে ডাকা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি এবার ইন্টারভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করেন। বাকি আট পরিচালক বোর্ডের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। আগত কর্মকর্তাদের বোর্ডের প্রত্যেক সদস্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে কোনো না কোনো প্রশ্ন করেন। এভাবে মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার পর দিনই চূড়ান্তভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
গতকাল বিমানের বলাকা ভবনের দায়িত্বশীল (প্রশাসনিক) কর্মকর্তারা পদোন্নতির বিষয়ে সরাসরি কথা না বলে নয়া দিগন্তকে বলেন, বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমরা দেখতে পেলাম, এবার মৌখিক পরীক্ষার যেসব প্রার্থীর বয়স ৫০ এর বেশি তাদের কারোরই পদোন্নতি হয়নি। অথচ বোর্ড মাত্র ৫-৭ মিনিটের ভাইবা পরীক্ষা নিয়ে কিভাবে জুনিয়রদেরই শুধু বাছাই করে পদোন্নতি করলেন তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেন। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মূলত জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে আমাদের বিমানের অভ্যন্তরে কৌশলে অসন্তোষ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে বিমানের প্রতিটি শাখায় কাজের গতি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি করপোরেশনের প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেতিবাচক ধারা সৃষ্টি হবে।
প্রকৌশল শাখার একজন কর্মকর্তা এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, অল্প সময়ের ইন্টারভিউতে শুধু সমস্ত সিনিয়রদের এসিআর ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে বিচার বিশ্লেষন না করেই একতরফাভাবে জুনিয়র প্রার্থীদের পদোন্নতি দেয়া হলো। যেকোনো মুহূর্তে এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। তিনি প্রশ্ন রেখে জানতে চান, কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এ পন্থা অবলম্বন করা হলো? এটা কিসের আলামত?
বিমানের বলাকা ভবনের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, ফাইন্যান্স শাখায় ছয়টি পদের জন্য মোট ১৩ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। যাদের মধ্যে সবার শেষের তিনজনকে (জুনিয়র) পদোন্নতি দেয়া হয়। বাকি তিনটি পদ খালি থাকা সত্ত্বেও বাকি ১০ জনের কাউকেই পদোন্নতি দেয়া হয়নি। একইভাবে প্রকৌশল শাখায় ১০টি কর্মকর্তার পদ খালির বিপরীতে ২৮ জন অংশ নেন। এর মধ্যে ক্রমানুযায়ী শেষের ১০ জনকে (জুনিয়র) পদোন্নতি দেয়া হয়। করপোরেট সেফটি অ্যান্ড কোয়ালিটি শাখায় দুইটি পদের বিপরীতে দুইজন অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু এ পদে কাউকেই পদোন্নতি দেয়া হয়নি। একইভাবে অডিট শাখারও কাউকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। তবে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস (ট্রাফিক সেকশন), বিক্রয় ও বিপণন শাখার সব পদোন্নতি ও পোস্টিং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় স্থগিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন শাখায় অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সম্প্রতি নতুন অভিযান শুরু হয়। তবে শুদ্ধি অভিযানের নামে অনেক যোগ্য কর্মকর্তাকে সরিয়ে সেখানে কাজ জানেন না, কথা বলতে পারেন না এমন পছন্দের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদে বসানো হয়েছে বলে বিমানের ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

 


আরো সংবাদ