১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

সরকার সব কিছুই খেয়ে ফেলছে : মির্জা ফখরুল

স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত -

ঐক্যবব্ধ গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন ও গণতন্ত্র মুক্তি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ক্ষমতাসীন সরকারের এখন প্রচণ্ড ক্ষুধা মন্তব্য করে তিনি গতকাল শুক্রবার এক সভায় বলেন, ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকের প্রধান চরিত্রের মতোই সরকার সব কিছু খেয়ে ফেলছে। এরা তো সব খাওয়া শুরু করেছে। আমরা খুব সুন্দর একটা নাটক দেখেছিলাম মুনতাসীর ফ্যান্টাসি। এটা সেলিম আল দীনের লেখা। এখানে প্রধান যে চরিত্রÑ সে সব কিছু খেয়ে ফেলে। এত ক্ষুধা তার, প্রচণ্ড ক্ষুধা। খেতে খেতে চেয়ার-টেবিল সব কিছু খেয়ে ফেলছে, কাগজ-টাগজ সব কিছু খেয়ে ফেলছে। এরা মুনতাসীর ফ্যান্টাসির মধ্যে পড়েছে। তারা সব কিছু খেয়ে ফেলছে। এখন সাধারণ মানুষের পেঁয়াজ আর লবণ নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে। এ সরকারের একটাই উদ্দেশ্যÑ যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় থেকে শুধু লুটপাট করা, নিজেরা বিত্তশালী হওয়া এবং সেই বিত্ত, সেই অর্থ সম্পদকে বিদেশে পাচার করে তাদের সন্তানদের, তাদের পরিবারকে নিরাপদ রাখা। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করার কোনো অবকাশ তাদের নেই।
সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী হেলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ফখরুল ইসলাম রবিন, গাজী রেজওয়ান হোসেন রিয়াদ, নজরুল ইসলাম, রফিক হাওলাদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রতিটি মানুষ চায় এ সরকার যাক, চলে যাক। এ মুহূর্তে গেলে আরো ভালো। কারণ আর পারা যায় না, মানুষ আর পারছে না। আগে তো ১০ বছর ধরে বিএনপিকে পিটিয়েছে। এখন সাধারণ মানুষকে পেটানো শুরু করেছে পেঁয়াজ, লবণ সব কিছু দিয়ে। দাম এমন পর্যায়ে বাড়িয়ে নিয়ে চলেছে যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন দুঃসহ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে পাহাড়ের মতো শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমরা গোটা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছি, আমরা দলমত নির্বিশেষ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ইনশা আল্লাহ আমরা গণ-আন্দোলন সৃষ্টি করব। সেই গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন এবং গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। এটা আমাদের বিশ্বাস। আমরা জানি এটা হবেই। সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, বিভ্রান্তি ভুলে গিয়ে, আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো রকম দ্বিধা সৃষ্টি না করে পাহাড়ের মতো শক্তি নিয়ে আমাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী হতে হবে। সেই শক্তি নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যাবো। আমরা অতীতে পেরেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করেছি, আমরা আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশকে মুক্ত করেছি। ঠিক একইভাবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা অবশ্যই দেশনেত্রীকে মুক্ত করে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে সক্ষম হবো ইনশা আল্লাহ।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে বলেন, এটা স্বৈরাচার সরকার। এটা তো স্বৈরাচারের বাবা ফ্যাসিবাদ। স্বৈরাচার হলে তাদের একটা মিনিমাম থাকে। এরশাদ ছিল স্বৈরাচার। তখন তো এ অবস্থা ছিল না। আইয়ুব খান ছিল স্বৈরাচার-ডিকটেটর, তখনো এই অবস্থা ছিল না। এ সরকার ফ্যাসিবাদÑ একজন, এক ব্যক্তি। আর কিচ্ছু নেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আলো দেখছেন জানিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, আজকে যখন আমাদের অনেকের মধ্যে হতাশা কাজ করছে, আমাদের অনেকের মধ্যে একটা ভয়ভীতি-ত্রাস আসছে, তখন তিনি কিন্তু সেই সুদূর থেকে লালমনিরহাটের একটি গ্রামের নেতাকে ফোন করে বলছেন, কেমন আছেন, ভালো আছেন তো। সাহস হারাবেন না, আমরা সবাই আছি। অনেকে মনে করেন যে, তিনি শুধু আমাদের নেতৃবর্গের সাথে কথা বলছেন। না। তিনি প্রায়ই দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সেই তৃণমূল নেতাদের সাথেও কথা বলছেন। এভাবে তিনি উজ্জীবিত করছেন গোটা জাতিকে। সে জন্য বললাম, আমাদের এত অন্ধকার-হতাশা-নিরাশার মধ্যেও আমরা সেই আশার আলো দেখতে পাই তারেক রহমানের নেতৃত্বের মধ্যে। সেই নেতৃত্ব ইনশা আল্লাহ আমাদেরকে মুক্তির পথ এনে দেবে।
নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমরা এ অবস্থার মধ্যে আছি। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর জেলে ছিলেন। আমার পাশের দেশের যাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুব খারাপÑ মিয়ানমার, তার নেত্রী সু চি (অং সান সু চি) ২২ বছর ধরে গৃহবন্দী ছিলেন প্রায়। শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের জয় হয়েছে, গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে। আমাদের দেশনেত্রী আজকে কারাগারে। নিজের জন্য নয়, আজকে আমাদের জন্য ও দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য তিনি কারাগারে। কেন? অন্যান্য সবাইকে জামিন দিয়ে দেন, দেশনেত্রীকে জামিন দেন না একই ধরনের মামলায়। কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি আছেন, যারা একই মামলায় জামিনে আছেন। আপনারা তাকে ভয় পান বলে জামিন দিতে চান না। আইনগতভাবে যেটা তার প্রাপ্য সেটা তাকে দিচ্ছেন না। কারণ আপনারা জানেন, দেশনেত্রী বাইরে থাকলে এই যে অপকর্মগুলো করছেন, এই যে মেগা প্রজেক্ট থেকে মেগা লুট করছেন, মানুষের সব অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছেন, ভোট করছেন নিজের ইচ্ছামতো, সেটা আপনারা আর পারবেন না। সে জন্য দেশনেত্রীকে আপনারা মুক্তি দিতে চান না।

 


আরো সংবাদ