২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অভিনব আইডিয়া পেঁয়াজ মজুদের!

-

গত কয়েক মাস পেঁয়াজ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতে। বাংলাদেশে এই পণ্যটির দাম তো আড়াই শ’তে গিয়ে ঠেকেছিল। অন্য দিকে ভারতেও দুশো টাকায় বিক্রি হয় পেঁয়াজ। তবে এ নিয়ে বরাবরই আক্ষেপ রয়েছে কৃষকদের। তারা বলেন, পচনশীল এ দ্রব্যটির মৌসুমে এক দিকে যেমন দাম পড়ে যায় একেবারে, আবারো কোনো কোনো সময় তার দাম গিয়ে ঠেকে আসমানে। ভোক্তাদের ঠিকই বেশি দামে কিনতে হয়, অথচ চাষিরা দাম পায় না একেবারেই। এ অবস্থায় যদি কম খরচে পেঁয়াজ মজুদ করে রাখা যেত তাহলে তা ভালো হতো সবার জন্যই। এ ক্ষেত্রে একটি অভিনব উপায় বের করেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের ২৩ বছর বয়সী রোহিত প্যাটেল।
এ তরুণের কষ্ট ছিল প্রতি বছর পেঁয়াজের যা ফলন হয়, তার চেয়ে অনেক কম পেঁয়াজ তিনি বাজারে বেচতে পারেন। কারণ ফলনের অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেত। এ অবস্থায় কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করাও ছিল অনেক খরচসাপেক্ষ। এ সমস্যা সমাধানে নিজেই মাথা খাটিয়ে অভিনব উপায় বের করেন তিনি।
রোহিত জানান, সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ পেঁয়াজের ফলন হয়। কিন্তু সে সময় পেঁয়াজের খুব ভালো দাম মেলে না। প্রতি কেজি পেঁয়াজ তখন মাত্র ২-৩ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। অথচ কিছুদিন সংগ্রহে রেখে দিয়ে যদি সেটা বর্ষায় বিক্রি করা যায়, তা হলে এক কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে লাভও অনেক বেশি হয়।
সে জন্য তিনি তার ৬০০ বর্গফুটের ঘরে মাত্র ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দেশী পদ্ধতির কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করে ফেলেন। ওই ঘরে কোনো জানালা রাখেননি রোহিত। একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে আট ইঞ্চির ইটের দেয়াল বানান। তার ওপর লোহার তারের জালি লাগিয়ে ফেলেন। এ তারের জালের ওপর পেঁয়াজগুলো ছড়িয়ে দেন। নির্দিষ্ট দূরত্বে পুরো ঘরজুড়েই লাগিয়ে দেন মোটা পাইপ, যা একেবারে নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। আর পাইপের একেবারে বাইরে লাগিয়ে দেন ফ্যান। পুরো ব্যবস্থাটা কাজ করে একটি কোল্ড স্টোরেজের মতো। ফ্যান চালালেই ঠাণ্ডা হাওয়া একেবারে নিচ পর্যন্ত প্রবেশ করে। পুরো ঘর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এতে বেশির ভাগ পেঁয়াজই ভালো থাকে। আগে যেখানে তিন হাজার কুইন্টাল পেঁয়াজ বেচে রোহিত ৯০ হাজার টাকা আয় করতেন, এখন সেখানে তার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ লাখ টাকা। রোহিতের এ অভিনব পদ্ধতি এখন তার আশপাশের চাষিরাও প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন। ইন্টারনেট।


আরো সংবাদ