২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০
রাজধানীতে বিক্ষোভ

সুষ্ঠু নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে সরকার : রিজভী

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত -

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে গতকাল সোমবার দুপুরে একটি বিক্ষোভ মিছিল ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের মোড় থেকে শুরু হয়ে স্টার কাবাবের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া যুবদল, ছাত্রদলের বিপুল নেতাকর্মী মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দেন। মিছিল শেষে এক পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ষড়যন্ত্র ও জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কর্মসূচি হাতে নেয়। বিগত ১২ বছরে শুধু গণতন্ত্রই ধ্বংস নয়, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকেও দুর্বল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ঠিকই উপলব্ধি করেছিল যে, প্রতারণার জবাব দিতে দেশের মানুষ পরবর্তী নির্বাচনে আর কখনোই তাদেরকে সমর্থন করবে না। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং স্বচ্ছ ভোটকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের করালগ্রাসে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কায়েম করে দেশের জনগণকে বন্দী করে রেখেছেন সরকারপ্রধান। এই ভয়াল সন্ত্রাসের নির্মম শিকার হলেন এ দেশের কিংবদন্তিসম গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার আপসহীন নির্ভীক নেত্রী ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বেগম জিয়ার ন্যায্য জামিন পাওয়ার অধিকারকেই কেবল বাধাগ্রস্ত নয়, বরং শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ চারবারের সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীকে সুচিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে তার জীবনবিনাশে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা।
রিজভী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেশ কয়েক দিন ধরে বমি করছেন। তিনি খেতে পারছেন না, তার অসুস্থতা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। এমনকি বেগম জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকগণও প্রকারান্তরে স্বীকার করেছেন দেশনেত্রীর গুরুতর অসুস্থতার কথা। বেগম জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলেও তার শারীরিক অবস্থা গোপন করছে সরকার। বেগম জিয়া হাঁটু ও পায়ের গোড়ালিতে প্রচণ্ড ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে দেশনেত্রীর অসুস্থতা বর্তমানে মারাত্মক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে; কিন্তু সরকারের নির্দেশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেগম জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে সঠিক তথ্য না দিয়ে দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নীলনকশাই হচ্ছেÑ বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেয়া, যাতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কেউ সোচ্চার বা প্রতিবাদী না হয়। এই মনোবাঞ্ছা পূরণ হলেই শেখ হাসিনার সর্বগ্রাসী হানাদারি শাসন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে যাবে। কেননা বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর এই ধারণা জন্মেছে যে, জনগণ ক্ষমতার উৎস নয়, বরং আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে জনগণ এবং বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের স্টিমরোলার চালাতে পারলেই ক্ষমতার মসনদ হারাবে না; কিন্তু সরকার ও সরকারপ্রধানের এই ভ্রান্ত ধারণা শুধুই অলীক স্বপ্ন। মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকেছে। যেকোনো মুহূর্তে জনগণের বাঁধভাঙা স্রোত বর্তমান স্বৈরশাহীর মূলোৎপাটন ঘটিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। তাই সরকারকে বলছিÑ এবার ক্ষান্ত হউন, বেগম জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে জনতার ক্রোধ থেকে বাঁচুন। কারাবন্দী সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন রিজভী।

 


আরো সংবাদ