২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জননিরাপত্তা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করতে চান প্রার্থীরা

৬৯ নম্বর ওয়ার্ড
-

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত নগরীর ডেমরা থানার সাবেক ডেমরা ইউনিয়নের ১, ২, ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা। সংসদীয় ঢাকা-৫ আসনের এ এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন অন্তহীন নাগরিক দুর্ভোগে। ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, যানজট, খানাখন্দ সড়ক, অতিরিক্ত মশা-মাছি, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব, নোংরা পরিবেশ, যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়সহ নানা নাগরিক সমস্যায় রয়েছে অধিবাসীরা। প্রধান সড়ক থেকে পাড়া-মহল্লার অলিগলি পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি রাস্তারই বেহালদশা। যথাযোগ্য স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতে কিছু দিন আগেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো, কিছুটা উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ার কারণে এখন জলাবদ্ধতা আগের তুলনায় একটু কম। তবু ভারী বৃষ্টি হলে বাড়িঘরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। মাদক, সন্ত্রাস, প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখানকার প্রধান সমস্যা।
কাউন্সিলর নির্বাচনে এ ওয়ার্ডের নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব ও এলাকার উন্নয়নকল্পে নানা অঙ্গীকার নিয়ে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে এখন পুরোদমে। নানা কৌশলে এগিয়ে চলেছে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আওয়ামী লীগে প্রার্থী বেশি হলেও জাতীয় পার্টি নীরব। বড় দুই দলই জয় হাতছাড়া করতে নারাজ। জয়কে টার্গেট করেই নানা প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, উঠান বৈঠকসহ নানাভাবে ছলেবলে কলেকৌশলে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।
রাজধানীর ডেমরা থানাধীন সাবেক ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের ১,২,ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামারগোপ, খলাপাড়া, কামারগোপ দক্ষিণ, ডেমরা আহাম্মদ বাওয়ানি টেক্সটাইল, লফিত বাওয়ানি জুটমিলস, নড়াইবাগ, মিরপাড়া ও রাজাখালী এলাকা নিয়ে ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এটি সংসদীয় ঢাকা-৫ আসনভুক্ত এলাকা। এ ওয়ার্ডে বসবাসকারী লক্ষাধিক লোক হলেও ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন এ এলাকায় দ্বিতীয়বার হতে যাচ্ছে। তাই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আনন্দ উল্লাসের কমতি নেই। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা কোন আঙ্গিকে হবে এ নিয়ে চিন্তিত প্রার্থীরা। প্রার্থীদের অভিমত, এ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণাসহ ভোট আদায়ের কৌশল আগের চেয়ে নতুনরূপে বিস্তৃত পরিসরেই হবে। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ খুব বেশি। নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের মুখোমুখি অবস্থানে মাঠে রয়েছেন বিএনপির একক প্রার্থী। আর জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থীকে মাঠে লক্ষ করা যাচ্ছে না।
৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর ডেমরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী হাবিবুর রহমান হাসু, (ব্যাটমিন্টন র্যাকেট) আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, ডেমরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সালাউদ্দীন আহম্মেদ (ঘুড়ি), ডেমরা থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (করাত)। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপি নেতা মো: শামিম আহাম্মেদ (ঝুড়ি)।
সরেজমিন দেখা গেছে, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ঘনবসতি ও ঘিঞ্জি পরিবেশে চলাফেরায় নাভিশ্বাস উঠছে এলাকাবাসীর। অধিকাংশ এলাকায় সন্ধ্যা নামতেই বিদঘুটে অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তায় চলাচল খুবই কষ্টকর। এখানে কোনো কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, শিশুপার্ক, স্টেডিয়াম, পাবলিক টয়লেট ও পাবলিক লাইব্রেরিসহ কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই বললেই চলে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গৃহীত কিছু উন্নয়নমূলক কাজ শেষের দিকে রয়েছে। কাজগুলো শেষ হলে কিছুটা সমস্যা লাঘব হবে বলে মনে করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এখানে অবৈধ দখল, রাস্তার ওপর বাজার স্থাপন ও অনুন্নত বাজার ব্যবস্থাপনাসহ নানা নাগরিক সমস্যায় রয়েছে অধিবাসীরা। এসব সমস্যা লাঘবের আশ^াস দিয়ে বিভিন্ন রকম কথার মালা নিয়ে ভোটারদের মন জয় করার েেচষ্টা করছেন প্রার্থীরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রথম কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হাজী হাবিবুর রহমান হাসু নয়া দিগন্তকে বলেন, গত নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটার আমাকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছে। সে জন্য ওয়ার্ডবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। আমি যদি এবার নির্বাচিত হতে পারি অসমাপ্ত কাজগুলো আমি সমাপ্ত করে ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি বসবাসযোগ্য মডেল ওয়ার্ডে পরিণত করব। ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে ওয়ার্ডবাসীকে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে রাখব ইনশা আল্লাহ।
আলহাজ সালাউদ্দীন আহম্মেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি দীর্ঘ দিন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। সেই সুবাদে সামাজিক কর্মকাণ্ড করে ভোটারদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব। পাশাপাশি এলাকার সব প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে প্রত্যক্ষভাবে মানুষের সেবা করার প্রত্যয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকব।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপি নেতা মো: শামিম আহাম্মেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করে অবহেলিত এই ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক নাগরিক সুবিধাসংবলিত ওয়ার্ডে পরিণত করব। এটাই আমার মূল লক্ষ্য। তিনি আরো বলেন, আমার বিজয়ের মধ্য দিয়েই কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন আরো বেগবান হবে। শহীদুল ইসলাম শহীদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখানকার স্থানীয় প্রভাবশালীদের আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ উল্লেখযোগ্য সমস্যা দূর করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নসহ জননিরাপত্তা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে বাস্তবায়িত করে দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করব।
এদিকে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার নানা দুর্ভোগ দূর করতে মুখে অনেকেই নানা রকম আশ্বাস দিচ্ছেন। বিজয়ী হয়ে সে কথা আর কেউ মনে রাখেন না আর উন্নয়নের ওয়াদাগুলো বাস্তবায়ন করা পরবর্তীতে আর হয়ে ওঠে না। তারপরেও মানবসেবা উন্নয়নে বিশ্বাসী এমন ব্যক্তিকেই কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত করবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা ।


আরো সংবাদ