২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০
ডিএসসিসি নির্বাচন-২০২০

আ’লীগ প্রার্থীর গণসংযোগ তুঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর খোঁজ নেই

৩৬ নম্বর ওয়ার্ড
-

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগসহ বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের গণসংযোগ তুঙ্গে। তারা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে বিএনপি প্রার্থীর কোনো চিহ্নও নেই। জানা গেছে, ডিএসসিসি ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দুদের আধিপত্য। এ ওয়ার্ডে হিন্দু ভোটার বেশি। এখানে স্বর্ণ ব্যবসা বেশ জমজমাট। এ ওয়ার্ডে জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ। আর ভোটার ১২ হাজারের বেশি। কাউন্সিলর প্রার্থী চারজন। বর্তমান কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাস আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুইজন। তারা হচ্ছেন সৌমেন রায় ও বাবুল দাস। কোর্ট হাউজ স্ট্রিট, তাঁতী বাজার ও শাঁখারা পট্টি সারা বাংলায় পরিচিত। যানজট, মাদক পানি, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা দূরীকরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। এ দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রঞ্জন বিশ্বাসের মার্কা ঝুড়ি। বিদ্রোহী প্রার্থী সৌমেনের মিষ্টি কুমড়া এবং বাবুল দাসের ব্যাডমিন্টন মার্কা। আর বিএনপি প্রার্থী আবু তাহের লাটিম মার্কা পেয়েছেন। আ’লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যানার, পোস্টার ও ফ্যাস্টুন অলিগলিতে ঝুলছে। কিন্তু বিএনপি প্রার্থীর কোনো নামগন্ধ নেই। ১৪ গলির কোনো স্পটে তার কোনো নির্বাচনী আলামত নেই। গণসংযোগও করছেন না তিনি। থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতারা জানান, এ ওয়ার্ডে বিএনপির ভোট মাত্র ৩০০। বাকি সব সংখ্যালঘু ভোট। কিছু মুসলিম ভোটও রয়েছে। যারা আওয়ামী লীগের লোক। তা ছাড়া বিএনপি প্রার্থী তাহের ফিট নয়। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। তার মতো লোককে নমিনেশন দেয়ায় এ ওয়ার্ডে নির্বাচনী কোনো গণসংযোগ নেই তার। এমনকি ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা পোস্টারও টানোনো নেই। ঘরে বসে নির্বাচন করছেন তিনি। এসবের জন্যই বিএনপি মাঠপর্যায়ে এগিয়ে নয় বলে জানান তারা। এ ছাড়া তাহের মিডিয়ার সাথে কথা বলতে রাজি হননি। অন্য দিকে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এ দিকে আওলাদ হোসেন লেন, সুতানগর ও প্রসন্ন পোদ্দার লেনের পেছনে পাঁচ বছর আগের ময়লা-আবর্জনা রয়েছে, যা কোনো জনপ্রতিনিধির চোখে পড়ে না বলে জানান স্থানীয়রা।
তাঁতীবাজার একাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ভোটার জানান, এ ওয়ার্ডে ড্রেনেজ, পয়ঃনিষ্কাশন ও চাঁদাবাজির সমস্যা সমাধানে শতভাগ নিশ্চয়তা দেবেন যিনি, তাকে ভোট দিবেন তারা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সৌমেন রায় বলেন, এ ওয়ার্ডে একটি হাইস্কুল নেই। একটি স্কুল নির্মাণ এবং নীরব চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। স্বর্ণ ও কাপড় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় কাজ করবেন তিনি। এ ছাড়া গত সাত বছরের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কারসহ ড্রেনেজ, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। সর্বোপরি পরিচ্ছন্ন একটি ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান কাউন্সিলর আমার প্রাণের মানুষ। তার প্রিয় ছোট ভাই তিনি। তারপরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী রঞ্জন বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বলেন, এলাকায় এক সময় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হতো তা বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তিনি, যা দৃশ্যমান আছে। এবার নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজগুলো করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


আরো সংবাদ