২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০
রিফাত হত্যা

দায়রা ও শিশু আদালতে ৫ জনের সাক্ষ্য ও জেরা

-

বরগুনায় আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় দায়রা আদালতে গতকাল সোমবার আরো তিনজনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো: আছাদুজ্জামানের আদালতে দেখা সাক্ষী মো: সাইফুল ইসলাম, সানজিদ হোসেন ও শোনা সাক্ষী নাজমুল হাসান সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাইফুল ইসলাম ও সানজিদ হোসেন সে দিনের নৃশংসতার প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিয়েছেন আদালতে। এ ছাড়া শিশু আদালতে দুইজনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল সোমবার জেলা কারাগার হতে পুলিশ পাহারায় সকাল ৯টায় প্রাপ্ত বয়স্ক আটজনকে জেলা ও দায়রা আদালতে এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ৯ জন আসামিকে শিশু আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামিরা হলো রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ুম রাব্বি আকন, রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়, হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, সাগর, কামরুল হাসান সায়মুন ও মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত। জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও আদালতে উপস্থিত হন। আসামি মুছা পলাতক রয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় এজলাসে বসেন দায়রা জজ মো: আছাদুজ্জামান। প্রথমে সাক্ষ্য দিতে উঠেন মো: সাইফুল ইসলাম। তার সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলে সাক্ষ্য দিতে আসেন নাজমুল হাসান ও সানজিদ হোসেন। সাইফুল ইসলাম ও সানজিদ হোসেন দেখা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ২৬ জুন আমি সকাল সাড়ে ৮টায় বরগুনা সরকারী কলেজে যাই। সকাল অনুমান ১০টা ১০ মিনিটে কলেজ গেটে আমার হোন্ডার দিকে যাই। তখন দেখি আসামি রিফাত ফরাজি, রিশান ফরাজি, টিকটক হৃদয়সহ সাত-আটজন রিফাত শরীফকে জামার কলার ধরে টানাহেঁচরা করে ক্যালিক্স একাডেমির দিকে নিচ্ছে। এ সময় আসামি চন্দন হাসান, মারুফ বিলাহ, নাজমুল, তানভির, নিয়ামত, প্রিন্স মোল্লাও ছিল। রিফাত ফরাজি দৌড় দিয়ে পূর্ব দিক থেকে দু’টি বগি দাও নিয়ে আসে। একটি রাস্তায় রাখে। অন্যটি দিয়ে রিফাত শরীফকে কোপায়। নয়ন বন্ড রিফাত ফরাজির দাও নিয়ে রিফাত শরীফকে কোপায়। তখন রিফাত ফরাজি রাস্তা থেকে বগি দা তুলে রিফাত শরীফকে কোপায়।
রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, এখন পর্যন্ত যারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা সবাই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে আবদুল হাই হাদি, সাইফুল ইসলাম ও সানজিদ দেখা সাক্ষ্য। তারা সঠিকভাবে হত্যার বর্ণনা দিতে পেরেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করে বাদি ন্যায়বিচার পাবেন।
আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, যে তিনজন আদালতে যেভাবে দেখা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাতে মিন্নির সম্পৃক্ততা নেই।
দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক আসামির জামিনের আদেশ আজ
এ দিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় শিশু আদালতে বাদির মেঝো ভাই আবদুল সালাম শরীফ ও ইদ্রিসুল আলম লিটন সাক্ষ্য দিয়েছেন। শিশু আদালতের বিচারক ও জেলা জজ মো: হাফিজুর রহমান দুইজন সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা রেকর্ড করেন। আসামি পক্ষের ১০ জন আইনজীবী দুই সাক্ষীকে জেরা করেন। দু’জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক আসামির জামিনের আবেদন শুনানি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আদেশের জন্য তারিখ রেখেছেন আদালত।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা কারাগার হতে পুলিশ পাহারায় ৯ শিশু আসামিকে আদালতে উপস্থিত করেন। আসামিরা হলোÑ রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজী, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, আবু আবদুল্লাহ রায়হান, অলি উল্লাহ অলি, মো: নাঈম, তানভীর হোসেন, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ও জয় চন্দ্র সরকার। এ ছাড়া জামিনে থাকা প্রিন্স মোল্লা, মারুফ মল্লিক, নাজমুল হাচান, রাতুল সিকদার ও আরিয়ান শ্রবন আদালতে উপস্থিত ছিল। বেলা ২টায় সাক্ষ্য শুরু হয়। বেলা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আসামি পক্ষের ১০ জন আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন।
দেখা সাক্ষী লিটন বলেন, ২৬ জুন আমি ও আমার ছোট ভাই হাদি ঘটনাস্থল ক্যালিক্স একাডেমির পাশে দোকানে ছিলাম। আসামি রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, টিকটক হৃদয়সহ একাধিক আসামি যখন রিফাত শরীফকে কলেজগেট থেকে টেনে আমার দোকান পর্যন্ত নিয়ে আসে তখন মিন্নি আসামিদের পেছনে পেছনে আস্তে আস্তে হাঁটে। মিন্নি ডাকচিৎকার দিয়ে রিফাত শরীফকে সেদিন বাঁচাতে পারতো। কিন্তু মিন্নি সেটা করেনি। সালাম শরীফ বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। খবর পেয়ে আমি দুলাল শরীফ ও আজিজ শরীফ বরগুনা হাসপাতালে ছুটে আসি। আমি ও আজিজ শরীফ রিফাত শরীফকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আদালতে যে ভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পাবে। যে দুইজন শিশুর জামিনের আবেদন করেছে তার বিরোধিতা করেছি। পিপি বলেন, আমি শুনেছি, হাইকোর্ট রোববার রাকিবুল হাসানকে জামিন দিয়েছেন। আদালতে এখন পর্যন্ত আদেশ পৌঁছেনি।


আরো সংবাদ