২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
বিধি মানছেন না প্রার্থীরা

প্রচারণায় মাইকের উচ্চস্বরে টেকা দায়

-

পরিবেশ ও শব্দদূষণের ঝুঁকিতে থাকা রাজধানীতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় বিধি লঙ্ঘন করে উচ্চস্বরে গান আর মাইকিংয়ে ঘরে টিকে থাকা এখন দায় হয়ে পড়েছে। সুন্দর ও দূষণমুক্ত নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া প্রার্থীদের এমন প্রচারণায় বিরক্ত ভোটাররা। এ রকম প্রচারণা বন্ধের দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, যারা নগরীর মানুষের সেবা করার কথা বলছেন অথচ প্রচারণার ক্ষেত্রে অসুস্থ মানুষ ও শিশুদের কষ্টের কথা ভাবেন না তারা আর যাই হোক জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তাদের প্রশ্ন নিয়ম মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে সমস্যা কোথায়? উচ্চস্বরে মহল্লার ভেতরে এভাবে গান বাজিয়ে মানুষকে বিরক্ত করে কিভাবে তারা ভোট পাওয়ার আশা করেন?
আর সপ্তাহখানেক পরই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। শেষপর্যায়ে এসে ভোটারদের নজর কাড়তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে প্রচারণার বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে গান বিকৃত করে প্রার্থীদের গুণকীর্তন করে মাইক বাজানো। কিন্তু অব্যাহত প্রচারণা ও মাইকের অপব্যবহার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের কাছে পরিণত হয়েছে রীতিমতো উপদ্রবে।
নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা নিয়ম অনুযায়ী বেলা ২টার আগে মাইক বা সাউন্ড বক্স ব্যবহারের বিধান নেই। কিন্তু এখন সকাল থেকে কোথাও রাত অবধি নির্বাচনী প্রচারে উচ্চস্বরে বাজছে এসব যন্ত্র। এতে করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অন্য দিকে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য জনপ্রিয় সব গানের কথাও বদলে দেয়া হচ্ছে। যুক্ত করা হচ্ছে প্রার্থীর পক্ষে প্রশংসার ফুলঝুরি। এতে করে প্রচারণায় অন্যতম সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে শব্দদূষণ। প্রচারণার গাড়ি, ভ্যান ও রিকশা থেকে দিন-রাত বিরামহীনভাবে উচ্চস্বরে শব্দ আসছে। এমনকি রাত ১০টার পরও বাজতে থাকে। এতে এলাকার সবারই সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অসুস্থদের বেশি ক্ষতি করছে।
বিষয়টিকে নির্বাচনী আচরণের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) মহাপরিচালক ড. শাহরিয়ার হোসেন। তিনি বলেন, সব প্রার্থী নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত বিধি লঙ্ঘন করছেন। তারা প্রচারণার জন্য হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বা মোটরশোভাযাত্রা করতে পারেন না, এটি দুঃখজনক, কারণ যারা নিয়ম লঙ্ঘন এবং পরিবেশ দূষণ করছেন তারা নগর পরিচালনায় কতটুকু যোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
সিটি নির্বাচনী প্রচারণায় প্লাস্টিকের মোড়কে থাকা বা লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। যদিও হাইকোর্ট বুধবার এক আদেশে লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন। কিন্তু তার পরও প্রচারে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন মোড়ানো পোস্টার।
এ বিষয়ে ইএসডিওর মহাপরিচালক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, বিপুলসংখ্যক লেমিনেটেড পোস্টারের কারণে শেষ পর্যন্ত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং সেখানে মশা জন্ম নেবে। প্রার্থীদের প্রচারণায় অসতর্ক আচরণ উদ্বেগের। কারণ তারাই তো নগর পরিচালনা করবেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক এম এ মতিন বলেন, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নিজেদের কাজকে নির্বাচনী উৎসবের দোহাই দিয়ে চালিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু এ কাজ অন্যভাবেও করা যেত। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেন না। তারা প্রচারণার জন্য পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করেন। তাদের সংগঠন রাজনীতিবিদদের পরিবেশবিষয়ে সচেতন করতে শিগগরিই প্রচারণা শুরু করবে বলে জানান বাপা সাধারণ সম্পাদক।


আরো সংবাদ