২৭ মে ২০১৯

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মামলার তদন্ত স্থগিত

শহিদুল আলম - ছবি : এএফপি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময়ে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে করা তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলার তদন্ত কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন। এর আগে গত ৪ মার্চ মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন শহিদুল আলম। রিটে এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রমও স্থগিত চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

শহিদুল আলম বর্তমানে এ মামলায় জামিনে রয়েছেন। গত বছরের ১৫ নভেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে জামিন দেন হাইকোর্ট। শহিদুল আলমের জামিনের বিষয়ে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এ রায় ঘোষণা করেন।

গত বছরের ১২ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ৬ আগস্ট রমনা থানায় করা মামলায় শহিদুল আলমের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।

শহিদুল আলমকে ৬ আগস্ট বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি শহিদুল আলম তার ফেসবুকের মাধ্যমে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমে কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে শ্রুতিনির্ভর (যাচাই-বাছাই ছাড়া কেবল শোনা কথা) মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে উসকানি দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর রূপে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করেছেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে বাসা থেকে নেওয়ার পর ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় ৬ আগস্ট রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ মামলায় ৬ আগস্ট সিএমএম আদালতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস শহিদুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন।


আরো সংবাদ