১৪ অক্টোবর ২০১৯

ওসি মোয়াজ্জেমের ফের জামিন আবেদন

মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে ফের জামিন আবেদন করেছেন। সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে এ আবেদন করা হয়। ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা কাওছার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইনজীবী রানা কাওসার বলেন, তিনি (ওসি মোয়াজ্জেম) অসুস্থ, তা ছাড়া তিনি একজন পুলিশ অফিসার। তিনি তো আর পালিয়ে যাবেন না। এসব গ্রাউন্ডে জামিন চেয়ে আবেদন করেছি।

এর আগে গত ১ জুলাই বিচারপতি মোঃ মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।

ওই দিন আদালত শুনানিতে বলেছিলেন, নুসরাত জাহান রাফিকে নিরাপত্তা দিলে এ ধরনের ঘটনা হয়তো এড়ানো যেত। তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখলে সে মারা যেত না। কিন্তু তা না করে ভিডিও করে মজা নিয়েছেন। তিনি তার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেননি। তার উচিৎ ছিল তাকে (নুসরাত) নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু তা না করে ওই ছাত্রীর বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করে তা ইন্টারনেট মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। এ কাজ করে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব বা ক্ষমতা থাকার পরও সে দায়িত্ব পালন না করার কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটে তবে সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিও সমান দায়ী। শুনানিতে আদালত আরো বলেছিলেন, কিছু কিছু ওসি-ডিসি নিজেদের জমিদার মনে করে। মনে হয় তারাই অল ইন অল।

গত ১৭ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতে আসেন তিনি।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর গত ১৬ জুন মোয়াজ্জেম হোসেনকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

গত ১৫ এপ্রিল থানায় মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ‘অসম্মানজনক’ কথা বলায় ও তার জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

সেই সঙ্গে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই এর ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। গত ২৭ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানার পক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই।

সোনাগাজীর মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা করার পর নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার আগে রাফি থানায় গিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তা মোবাইলে ভিডিও করে প্রচার করেছিলেন সোনাগাজীর তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম।

গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার আগ মুহূর্তে মিথ্যা কথা বলে নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।


আরো সংবাদ