১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

শহিদুল আলমের মামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ আপিল বিভাগের

ড. শহিদুল আলম - সংগৃহীত

আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে করা মামলার ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আরো দুই মাস বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ মামলায় জারি করা হাইকোর্টের রুল আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এর আগে গত ১৪ মার্চ শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গত ১৪ মার্চ হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে আমরা ৪ এপ্রিল লিভ পিটিশন (আপিল বিভাগে আবেদন) করেছি।

পরে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আপিল বিভাগ। এখন হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

গত ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ মামলাটির তদন্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। হাইকোর্টের দেয়া ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আবেদন শুনানির জন্য ১১ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আপিল বিভাগে শুনানি শেষে রোববার আদেশ দেন আদালত।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত বছরের ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে বাসা থেকে তুলে নেয়ার পর ‘উস্কানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে ৬ আগস্ট রমনা থানায় করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলমকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৫ নভেম্বর তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট।


আরো সংবাদ