২১ নভেম্বর ২০১৯

আবরার হত্যা : পাঁচ আসামি কারাগারে, ২ জনকে ৫ দিনের রিমান্ড

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ৫ আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।  আসামী পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ শুনানী শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 যাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, সদস্য মুনতাসির আল জেমি ও খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর। গত ৮ অক্টোবর আসামিদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এদিকে একই মামলায় শামীম বিল্লাহ এবং মোয়াজের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালতমামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের  পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।  ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ শুনানি শেষে ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে আবরারকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পরের দিন রাত আড়াইটা পর্যন্ত হলের ২০১১ এবং ২০০৫ নম্বর কক্ষে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্ট্যাম্প এবং লাঠি-সোটা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচ- মারধর করা হয়। এর ফলে ঘটনাস্থলে আবরারের মৃত্যু হয়। আবরারের মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে তার মৃতদেহ ফেলে রাখে। পরে কিছু ছেলে আবরারের মৃতদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল রহস্য উদঘাটন, অন্যান্য সহযোগী ও এজাহারবহির্ভূত পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, কোনো হুকুমদাতা থাকলে তাদের শনাক্ত করা এবং কী কারণে এরকম নির্মম হত্যাকা- ঘটিয়েছে সেসব তথ্য জানার জন্য আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, আবরার হত্যা মামলা দেশবাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বিশ্ব তাকিয়ে আছে এ মামলার কী বিচার হয়। আসামিরা এজাহারভুক্ত। আবরার মেধাবী ছাত্র। বুয়েট থেকে বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে সে তার বাবা-মায়ের মুখ উজ্জল করবে। কিন্তু বিনা কারণে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।

শামীমের পক্ষে তার আইনজীবী ফকির আব্দুল মজিদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, শামীমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। দুর্ভাগ্যক্রমে তাকে মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সে পাশের রুম থেকে আসার পথে দ্বিতীয় ভিডিও ফুটেজে তাকে দেখা গেছে। এ মামলায় ঘটনাস্থল থেকে যারা গ্রেফতার হয়ে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে শামীমের বিরুদ্ধে তারা কিছু বলে নাই। এ ঘটনায় জাতি শোকাহত, মর্মাহত। আমরাও শোকাহত, মর্মাহত। মামলাটির তদন্ত চলছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হয়ে আসুক। এ অবস্থায় শামীমের রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।

আসামি মোয়াজের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হোসেন বলেন, আসামি বুয়েটে শিক্ষার্থী। হলের করিডোরে আসা যাওয়ার পথে তাকে দেখা গেছে। যে আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা কেউ তার নাম বলেনি। জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে তাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি উত্তরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, রাত আড়াইটার সময় আসামিরা আসা-যাওয়া করছিল। তাদের এত পড়াশোনা। আসলে তারা সেখানে পাহারা দিচ্ছিল। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কাছে কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। তবে আসামিরা কোন কথা বলেননি। এরপর আদালত আসামিদের ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

 প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাতক্ষীরা হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার বিকেলে শামীম বিল্লাহকে এবং শনিবার সকাল ১১টায় মোয়াজকে উত্তরা ১৪ নম্বরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় আবরার ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন বেদম পেটায়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ।


আরো সংবাদ