১৯ নভেম্বর ২০১৯

দুই মাসে ৮৯২৬৯ গাড়ির ফিটনেস নবায়ন

হাইকোর্টে বিআরটিএ’র প্রতিবেদন
-

ঢাকাসহ সারাদেশে লাইসেন্স ও ফিটনেস নবায়ন ছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ গাড়ির মধ্যে হাইকোর্টের বেঁধে দেয়া দুই মাসের মধ্যে শুধুমাত্র ৮৯ হাজার ২৬৯টি গাড়ি ফিটনেস নবায়ন করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

গত ২৩ জুলাই এক আদেশে ঢাকাসহ সারাদেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়িগুলো দু’মাসের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে গত ২৪ জুন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ফিটনেস নবায়ন হয়নি এমন গাড়ির সংখ্যা এবং লাইসেন্স নবায়ন ছাড়া চালকদের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।

একইসাথে, সারাদেশে থাকা লাইসেন্সধারী ফিটনেসবিহীন চার লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৯ গাড়ি ও লাইসেন্স নবায়ন না করা চালকদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে বিআরটিএ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তাও জানাতে চেয়েছেন আদালত। বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালককে এ আদেশ পালন করতে বলা হয়।

আদালতের তলবের পর বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাহবুব-ই-রাব্বানী হাজির হওয়ার পর (২৪ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক। বিআরটিএ’র পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী ও রাফিউল ইসলাম।

ফিটনেবিহীন গাড়ি আর লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার নিয়ে গত ২৩ মার্চ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি ইংরেজি দৈনিক। ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। এরপর আদালত রুলসহ আদেশ দেন।

রুলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর বিষয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি সংবিধানের ৩২ ধারার আলোকে জীবন বাঁচার অধিকার বাস্তবায়নে কেন মোটর ভেহিক্যাল আইন ১৯৮৩ এর বিধানসমূহ সঠিকভাবে পালনের জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়।

একইসাথে, বিআরটিএ চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকার ট্রাফিক পুলিশের উত্তর ও দক্ষিণের ডিসি এবং বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাহবুব-ই-রাব্বানীকে এসব তথ্য জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়। ওইদিন বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালককে আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।

আদেশ অনুযায়ী ২৪ জুন বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে একটি ও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। একইসাথে বিআরটিএ’র পরিচালকও হাজির হন।

আদালতে বিআরটিএ’র আইনজীবী জানান, সারাদেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৯ এবং ঢাকা শহরে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮টি। তবে বিআরটিএ’র লাইসেন্স ছাড়া গাড়ির সংখ্যা জানার সুযোগ নেই। এটি রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি বলতে পারবে।


আরো সংবাদ

সকল