১২ ডিসেম্বর ২০১৯

পাঁচ দেশে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

-

আইনি সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত না করে বিদেশে (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশ- সৌদি আরব, ইরান, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায়) নারীকর্মী পাঠানো বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার রিট দায়েরের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী জামান আক্তার বুলবুল।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর কক্সবাজারের বাসিন্দা রাজিয়া খাতুন বাদী হয়ে এ রিট দায়ের করেন।

আইনজীবী জামান আক্তার বুলবুল জানান, রিট আবেদনটির ওপর আগামীকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

রিট আবেদনে আইন, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব, পুলিশের আইজি, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনে বিবাদীদের ব্যর্থতা, মানব পাচার প্রতিরোধে ২০১২ সালে করা মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ না নেয়া এবং আইনি সুরক্ষা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ রাখার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে। একইসাথে শিশু আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

গতবছর রামুর হাজিপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলায় রামুর ওই শিশুসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, বিনা খরচে মালয়েশিয়া ভালো বেতনে কাজ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই বছরের ২১ জুন সাগরে ছোট নৌকা দিয়ে জাহাজে তুলে দেয়। কয়েকদিন চলার পর জাহাজ থেকে থাইল্যান্ডের উপকূলীয় পাহাড়ের জঙ্গলে নামিয়ে দেয়। সেখানে দালালরা মারধর করে ও পরে মুক্তিপণ দাবি করে। ওই শিশুসহ আসামিরা ২ লাখ টাকা নেয়। পরবর্তীতে আরো ১ লাখ টাকা নেয়। এরপর তাকে মালয়েশিয়া নেয়া হয়। ২০১৭ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়া অভিযানকালে তিনি আটক হন। এক বছর জেল খাটার পর দেশে ফিরে আসেন।

মামলায় শিশুটির বয়স দেখানো হয় ২২ বছর। এই মামলায় গত ২৮ অক্টোবর হাইকোর্ট শিশুটিকে জামিন দেন। এই জামিন শুনানিকালে বলা হয়, শিশুটির জন্ম ২০০৭ সালে। তার বয়স এখন ১১ বছর। শিশুটির বয়স যখন ৬ বছর তখন তার বাবা মারা যায়। আর ঘটনা দেখানো হয়েছে ২০১৪ সালের। তখন শিশুটির বয়স ছিল সাত বছর। এ অবস্থায় শিশুটিকে আদালত জামিন দিয়ে বলেছিলেন, ‘ওতো এখনো মানবই হতে পারেনি। তাহলে ও মানবপাচার করবে কিভাবে?’

এই শিশুটিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ চেয়ে রিট করা হলো।


আরো সংবাদ