২০ নভেম্বর ২০১৯

এসআই বরখাস্ত হওয়া

-

গত ১৩ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় ‘থানায় বিয়ের প্রমাণ, এসআই বরখাস্ত, ওসি প্রত্যাহার’ শিরোনামে খবর পড়ে জানতে পারলাম, পাবনা সদর থানাধীন এলাকার রাসেল নামের এক যুবকের সাথে এক গৃহবধূর সম্পর্ক গড়ে ওঠায় ২৯ আগস্ট ওই নারী স্বামীর বাড়ি ছেড়ে তার কাছে আসেন। রাতে যুবকটি গ্রামের পুকুরপাড়ে তাকে ধর্ষণ করেছে। ৩১ আগস্ট টেবুনিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা শরীফুল ইসলামের অফিস কক্ষে নিয়ে তিন দিন আটকে রেখেও ধর্ষণ করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর থানায় যান ওই গৃহবধূ। কিন্তু পুলিশ মামলা না নিয়ে পরদিন অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে থানার গোলঘরে তার বিয়ে দিয়ে দেয়। এই বিয়েতে কাজী ডাকাসহ সব কাজ ওসির নির্দেশে একজন এসআই করেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তদন্তে সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় এসআইকে বরখাস্ত এবং ওসিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়। জেলার এসপির ভাষ্যমতে, ‘ওই দুই কর্মকর্তার কাজ আইনসম্মত হয়নি, তাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ আমাদের প্রশ্ন, দেশের কোন আইনে বা বিশেষ করে পুলিশি আইনে কোথাও কি লেখা আছে যে, কারো বিয়ের ব্যবস্থা করলে শাস্তি পেতে হবে। আইনের এমন কোনো ধারা থাকলে তা তুলে ধরা উচিত। অনেকে বলেছেন, আসামি-বাদির বিয়েবন্ধনের দায়িত্ব পুলিশের নয়। আবার অনেকে বলেছেন, পুলিশ দীর্ঘ পরিক্রমার একটা গোলযোগ সুন্দরভাবে মিটমাট করে দিয়েছে।
সংবিধানের ৫৭ ধারাতে কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ার বিধান আছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে নাকি সংসদ সদস্য পদের ক্ষতি হবে না (মাননীয় আইনমন্ত্রীর বক্তব্য)! আইনজ্ঞদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাইÑ পদত্যাগ বড়, না বহিষ্কার বড়? ছোট অপরাধ করলে সংসদ সদস্যপদ হারাতে হবে। অথচ বড় অপরাধের পরও সদস্যপদ বহাল থাকবে, এ কেমন আজগুবি কথা?
যা হোক, থানায় বাদি-আসামির বিয়ের আয়োজনের জন্য বরখাস্ত বা কোনো শাস্তি পাওয়ার কথা যদি আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকে, তাহলে এসআই বরখাস্ত হলেন কিভাবে?
মো: আবুল বাশার
চান্দিনা, কুমিল্লা


আরো সংবাদ