২০ অক্টোবর ২০১৯

ইরানি সেনাবাহিনী নিয়ে আরব দেশগুলোকে যা বললেন রুহানি

ইরানি সেনাবাহিনী আরব দেশগুলোর জন্য হুমকি নয় : রুহানি - সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ইরানি সেনাবাহিনী আরব দেশগুলোর জন্য হুমকি নয়। সাম্প্রতিক সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের জন্য তেহরানে আয়োজিত এক সামরিক কুচকাওয়াজে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তেহরানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেখানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন, সাঁজোয়া যান, রাডারসহ ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার নানা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। রুহানি বলেন, ‘এই অঞ্চলের দেশগুলোকে জানাতে চাই, ইরানের সশস্ত্রবাহিনী আপনাদের এবং আপনাদের জাতীয় স্বার্থপরিপন্থী নয়। তারা কেবল বহির্বিশ্বের শত্রুদের মোকাবেলা করে। আমাদের সব সমস্যার মূলে রয়েছে ইহুদি রাষ্ট্রপন্থী শাসন এবং আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ।’

ইরানের দু’টি সেনাবাহিনী রয়েছে। নিয়মিত বাহিনী জাতীয় প্রতিরক্ষার দিকগুলো দেখাশোনা করে। আর এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের হাত থেকে দেশ রক্ষার্থে গঠিত হয়। ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের পর বিশেষায়িত এই সেনাবাহিনী গড়ে তোলা হয়।

গত সপ্তাহে ইরানের সেনাবাহিনীর এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। মার্কিন এ নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় ইরান। এর ফলে মার্কিন সেনাবাহিনীর ওপর প্রতিশোধপরায়ণ হামলা হতে পারে বলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

ইয়েমেনে সৌদি জোটকে সমর্থন বন্ধের প্রস্তাবে ট্রাম্পের ভেটো
আলজাজিরা

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধে মার্কিন সিনেটে পাস হওয়া একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেটের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবকে নিজের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব দুর্বল করার জন্য অপ্রয়োজনীয় ও বিপজ্জনক চেষ্টা আখ্যায়িত করে মঙ্গলবার তাতে ভেটো দেন তিনি। 
ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের দারিদ্র্যকবলিত দেশটিতে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যেন আর সমর্থন না দেয়। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, এটি আজকের ও আগামীর জন্য আমেরিকান নাগরিক ও দেশের সাহসী কর্মীদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। সিনেটে এই প্রস্তাবের কো-স্পন্সর ছিলেন ভারমন্টের ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

মঙ্গলবার ট্রাম্পের ভেটোর পর টুইটারে দেয়া এক পোস্টে এ নিয়ে কথা বলেন বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, ট্রাম্পের ভেটো দেয়ার ঘটনায় তিনি হতাশ হলেও বিস্মিত হননি। ডেমোক্র্যাট দলীয় এই সিনেটর বলেন, বোমা নয়, ইয়েমেনের জনগণের প্রয়োজন মানবিক সহায়তা। ইয়েমেনের ভয়াবহ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পৃক্ততা বন্ধের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে আমি হতাশ। কিন্তু অবাক হচ্ছি না।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হাউছি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে যান হাদি। ২০১৫ সালের মার্চে হাউছি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিহত হওয়ার পর এই যুদ্ধের সমালোচনা তীব্র হতে থাকে। গত ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে মানবিক সহায়তার জন্য ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতেই ইয়েমেনে সৌদি অভিযান বন্ধের লক্ষ্যে সিনেটে প্রস্তাব তোলেন বার্নি স্যান্ডার্স।

সিনেটের অনেক রিপাবলিকান সদস্যও ইয়েমেনে সৌদি অভিযানে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার বিরোধী। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, এই প্রস্তাব যথার্থ নয়। কেননা ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী শুধু বিমানের জ্বালানি ও অন্য সহায়তা দিচ্ছে, তারা সরাসরি যুদ্ধ করছে না। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর ফলে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধে মার্কিন সক্ষমতা ক্ষুণœ হবে।

তবে ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি মনে করেন, যুদ্ধ শুধু একটি স্থানে থেমে থাকে না। এটি দুই পক্ষের সেনা সদস্যদের গোলাগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ বিষয় নয়। আধুনিক যুদ্ধে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জিম ম্যাক গভর্ন-এর ভাষায়, ইয়েমেনে নিক্ষেপ করা প্রায় সব বোমাই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানেও বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না মানুষের বাড়িঘর থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত। এমনকি জানাজা, আশ্রয় শিবির ও স্কুল বাসেও বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। আকাশ থেকে এভাবে বোমা নিক্ষেপের ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বেসামরিক ব্যক্তিরা।

এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরেও ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের ব্যাপারে রায় দিয়েছেন মার্কিন সিনেটররা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে মত দিয়ে এলেও এর বিপরীতে রায় দেন অধিকাংশ সিনেটর। তবে ওই বছরের মতো কংগ্রেস মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি। ওই সময়ে ইয়েমেনের যুদ্ধের ব্যাপারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বার্নি স্যান্ডার্স বলেছিলেন, ‘আজ সৌদি আরবের স্বৈরশাসকদের প্রতি আমরা বলেছি যে, আমরা তাদের সামরিক অ্যাডভেঞ্চারের অংশ হতে চাই না।’


আরো সংবাদ