১৯ আগস্ট ২০১৯

ইরানের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে : ইসরাইল

ইরানের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে : ইসরাইল - ছবি : সংগৃহীত

ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক উপলক্ষে আগত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টকে স্বাগত জানান স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেপ বরেল : এএফপি -
ইরানের সাথে যুদ্ধ আসন্ন বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের আঞ্চলিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী জাচি হানেজবি। তিনি বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে ইরান ও ইরানের সামরিক বাহিনীর সাথে সম্ভাব্য সঙ্ঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ইসরাইল।

ইসরাইলি মন্ত্রিসভার এই সদস্য বলেছেন, ইরানের সাথে একটি সামরিক সঙ্ঘাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি হবে কি-না সেটি সময়ই বলবে। তার দাবি, ইরানের সাথে যুদ্ধের বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রক্সি যুদ্ধ থেকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে। এখন ইরান ও আমাদের (ইসরাইল) মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ যুদ্ধ হবে। এটি এড়ানো অসম্ভব। তবে এই যুদ্ধ হবে ভয়ঙ্কর।

সিরিয়া ইস্যুতে হানেজবি বলেন, সিরিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অধীনে ১০ হাজার যোদ্ধা লড়াই করছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি লেবাননের লড়াইরত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক লাখ ৬০ হাজার রকেট সেখানে মজুত করেছে। যুদ্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ইসরাইল যুদ্ধ না করেও তার খেসারত আর দিতে পারবে না, এর অর্থ হচ্ছে সিরিয়ায় ইরানকে তাদের অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়ার জন্য একটি সবুজ বার্তা দেয়া। আমরা তাদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করব; নতুবা আমাদের সীমান্তের কাছে একটি সন্ত্রাসী রাজ্য গড়ে উঠবে।

ইসরাইলি এই মন্ত্রী বলেন, আমরা ইরানকে এটা মনে করিয়ে দিতে চাই যে, সিরিয়ায় তাদের অবস্থান উপকারী নয়। সেখানে তাদের (ইরানের) পুনরায় অবস্থান ঠিক করে নেয়ার কোনো আশা নেই। তাদের এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আমরা ইরানকে দমন করব। ইরানের সাথে সরাসরি সঙ্ঘাতের ব্যাখ্যা দিয়ে হানেজবি বলেন, আমরা তাদের ওপর আঘাত হানব এবং তারা জবাব দিলেও আমাদের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারবে না। ইরানিরা ইরাক অথবা লেবানন থেকে রকেট ছুড়তে সক্ষম; নিজ দেশ থেকেও। কিন্তু আমরা তাদের সব সঙ্ঘাত শেষ করে দেব বিজয়ের মাধ্যমে। সব ধরনের হুমকি থেকে কী ভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয় সেটি আমরা জানি। আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আছে, যেটি তাদের নেই। 

ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক 
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। ব্রিটেন বলেছে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি এখনো মৃত নয়। এটি ধরে রাখার জন্য ছোট একটি পথ এখনো আছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সংলাপে বসাতে রাজি করার উপায় খুঁজে বের করতে ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে জড়ো হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে একতরফাভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প। অন্য দিকে পারমানবিক ইস্যুতে ইরান পরে তার বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসে। 
ব্রাসেলসের এই বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দিয়েছেন। বৈঠকের আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি সংরক্ষণের সময় এখনো আছে। ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের নিকটতম সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও ইরানকে কিভাবে পরিচালনা করা যায় সে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। তিনি বলেন, ইরান পরমাণু বোমা তৈরিতে ভালো একটি বছর পার করছে। সব কিছু প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এর পরও কিছু জায়গা এখনো খোলা রয়েছে চুক্তিটি চালু রাখতে। 

একইভাবে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেন ইয়েভেন বলেন, চুক্তি বহাল রাখার জন্য ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলার সিদ্ধান্তের বিপরীতে ইরানকে সম্মত করতে হবে। গত বছর এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া ‘খারাপ সিদ্ধান্তের জন্য একটি খারাপ প্রতিক্রিয়া’ ছিল। 

গতকাল সোমবার ব্রাসেলসে তিন ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরানকে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়। বৈঠক সামনে রেখে তিন দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে ওই চুক্তির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্পর্ক নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে গভীর সমস্যায় পড়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এতে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা বিশ্বাস করি দায়িত্বের সাথে কাজ করা, উত্তেজনা নিরসনের পথ খোঁজা এবং আবারো আলোচনা শুরুর সময় এসেছে।’ ‘ঝুঁকি এমন যেসব অংশীদারেরই থামার দরকার রয়েছে, আর নিজেদের কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য পরিণতি বিচার করার প্রয়োজন রয়েছে।’

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর


আরো সংবাদ