২১ নভেম্বর ২০১৯

সিসি'র পদত্যাগের দাবিতে মিসরজুড়ে বিক্ষোভ

কায়রোতে সিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ - সংগৃহীত

মিসরের স্বৈরশাসক জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি-র পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী। বিবিসি জানায়, দুর্নীতির অভিযোগ এনে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট সিসির পদত্যাগের দাবিতে তাহরির স্কয়ারসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘ভয় নয়, জেগে উঠো, সিসি হটাও’ প্রভৃতি স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে। রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ার ছাড়াও আলেকজান্দ্রিয়া, সুয়েজের মতো বড় বড় শহরগুলোতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, স্বেচ্ছায় নির্বাসিত মিসরীয় ব্যবসায়ী ও অভিনেতা মোহাম্মদ আলীর এক আহ্বানের পর শুক্রবার রাস্তায় নেমে আসতে শুরু করে মিসরের সাধারণ মানুষ। জেনারেল সিসি-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেখানে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত সেখানে সিসি ও তার কর্মকর্তারা জনগণের বিপুল অংকের অর্থ অপচয় করছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জেনারেল সিসি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ আলী বলেন, সিসি যদি বৃহস্পতিবারের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা না দেয়, তবে শুক্রবার মিসরের জনগণ রাজপথে নেমে আসবে। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকেই জেনারেল সিসি-র দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করেন মোহাম্মদ আলী। অনলাইনে এসব ভিডিও লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদের কার্যতঃ নেতা হয়ে উঠেছেন স্বেচ্ছা নির্বাসিত এ ব্যবসায়ী।

শুক্রবার তাহরির স্কয়ার অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে সাদা পোশাকে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ধরপাকড়ের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তারা। একপর্যায়ে বিক্ষোভের তীব্রতায় বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট।

কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ইয়েহিয়া ঘানেম বলেন, মিসরে এখন যা ঘটছে তা সেখানে দীর্ঘদিনের নিপীড়নের ফল। শুক্রবারের বিক্ষোভ দেশটির মানুষের আন্দোলনে গতি সঞ্চার করবে।

এদিকে দাবি আদায়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তারা সবাইকে বিভেদ ভুলে সিসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুথানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিক্ষোভের মুখোমুখি হলেন একনায়ক প্রেসিডেন্ট সিসি। অবশ্য দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা’ এবং ‘অপবাদ’ বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৩০ জুন মিসরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি। এর এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল সিসি। প্রতিবাদে মুরসি সমর্থকরা রাস্তায় নামলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ব্রাদারহুডের প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মী। ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিমা দেশগুলো এই অভ্যুত্থানে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। পাশাপাশি মুরসি সমর্থকদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জেনারেল সিসিকে সমর্থন দেয় সৌদি আরব।


আরো সংবাদ