১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

সিরিয়ায় সামরিক অভিযানে প্রস্তুত তুরস্ক

সিরিয়ায় সামরিক অভিযানে প্রস্তুত তুরস্ক - ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের চেষ্টা আসলে কোনো সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করে না তুরস্ক। তাই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে দেশটি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসোগলু এ কথা বলেছেন। আঙ্কারা ও ন্যাটোর মিত্র ওয়াশিংটন সিরিয়ার সীমান্তে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হয়েছে। ৩০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে সিরিয়ান কুর্দি ওয়াইপিজি মিলিশিয়াকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় তুরস্ক, কারণ এটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে দেখে দেশটি। তুরস্ক বলেছে যে ২০ লাখেরও বেশি সিরিয়ান শরণার্থী এই এলাকায় বসতি স্থাপন করতে পারে। তবে এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিরিয়ান শরণার্থীদের বসতি স্থাপনের প্রত্যাশা পূরণ না হলে বা উদ্যোগ স্থগিত হলে একতরফাভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তুরস্ক।

সামরিক অভিযানের বিষয়ে প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত দিয়ে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ পদক্ষেপের অগ্রগতিতে ঘাটতির কারণে তুরস্কের একা কাজ না করার কোনো বিকল্প ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার সম্প্রচার সংস্থা এ হাবেরের সাথে কথা বলার সময় কভুসোগলু বলেন যে, তুরস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতা দেখেনি। আমরা মনে করি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান এই প্রক্রিয়াটি আমাদের প্রত্যাশিত পর্যায়ে যাবে না। মাঠ থেকে প্রাপ্ত তথ্যই এটি প্রমাণ করে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় আঙ্কারার সিদ্ধান্ত নিয়ে সিরিয়ার নীতি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিসহ অনেকগুলো বিষয় নিয়ে ন্যাটো জোটের মধ্যে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। কূটনীতিক, বিশ্লেষক ও তুরস্কের প্রধান বিরোধীরা বলছেন, পুরোপুরি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ক্ষোভকে বাড়াতে আগ্রহী নয় আঙ্কারা। মিত্র দেশটির সাথে বিচ্ছিন্ন সম্পর্কগুলো পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করার কারণে তুরস্ক ধীরে সুস্থে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তুর্কি সেনারা এ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার এলাকাটিতে অর্ধ ডজন যৌথ বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। এখানে দু’টি স্থল ঘাঁটি রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন তুরস্ককে সতর্ক করেছে যে একতরফাভাবে ব্যবস্থা নেয়া কোনো দেশের নিরাপত্তায়-সুরক্ষার সুবিধা বা কোনো উপকারে আসবে না। কাভুসোগলু আঙ্কারার এই সতর্কবার্তাটিরই পুনরাবৃত্তি করে বলেন যে তারা আক্রমণ চালানোর জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমাদের আশপাশের অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নির্মূল করতে এবং সেখানে শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনতে আমাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।

সূত্র : রয়টার্স 


আরো সংবাদ