২৩ অক্টোবর ২০১৯

ইরাকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে

চাকরির সঙ্কট, নিম্নমানের নাগরিক পরিষেবা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইরাকে জনসাধারণের টানা কয়েকদিনের সহিংস বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৭২-এ পৌঁছেছে বলে দেশটির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে প্রভাবশালী শিয়া নেতা মোকতাদা আল সদর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের দাবি তুলেছেন।

সরকার সব ইরাকির প্রয়োজন মেটানোর উপযুক্ত কোনো কর্মসূচি হাতে না নেয়া পর্যন্ত অনুসারী সংসদ সদস্যদের পার্লামেন্ট বয়কটেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সদরের এ অবস্থান ইরাকজুড়ে বিক্ষোভের ধার আরো বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

‘ইরাকিদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে সরকারের পদত্যাগ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দেখভালে নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া উচিত,’ বিবৃতিতে বলেছে প্রভাবশালী এ শিয়া নেতার কার্যালয়। তিন দিনের বিক্ষোভ সহিংসতায় সহস্রাধিক আহত হওয়ার পর শুক্রবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি আন্দোলনকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিন তিনি বাগদাদের কারফিউ তুলে নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতায় শুক্রবারই বেশি হতাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ইরাকের সামরিক বাহিনী এদিন ‘অজ্ঞাত স্নাইপারদের’ গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। বাগদাদে পুলিশের সাথে সহিংসতার পর মাথায় গুলিবিদ্ধ এক বিক্ষোভকারীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেছেন রয়টার্সের এক প্রতিবেদক। চিকিৎসকরা পরে ওই বিক্ষোভকারীকে মৃত ঘোষণা করেন।

রয়টার্সের এক টেলিভিশন ক্রুও ঘাড়ে স্নাইপারের গুলিতে আহত এক বিক্ষোভকারীকে দেখেছেন। শুক্রবার রাতেও বাগদাদের অনেক এলাকায় গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এদিন দক্ষিণের শহর দিওয়ানিয়ায় প্রাদেশিক সরকারের সদর দফতরে হানা দেয়া বিক্ষোভকারীদের দিকে পুলিশ গুলি ছুড়লে তিনজন নিহত হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন ইরাকের শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আয়াতুল্লাহ সাইয়িদ আলি হুসাইনি সিস্তানি। ‘যা ঘটছে, তার জন্য পার্লামেন্টই সবচেয়ে বেশি দায়ী,’ বলেছেন তিনি।

ইরাকের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ আল হালবুসি জনসাধারণের এ বিক্ষোভকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিপ্লব’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি ইরাকি তরুণদের জ্বালানি খাতে চলমান বিদেশী প্রকল্পগুলোতে আকর্ষণীয় চাকরি ও দরিদ্রদের জন্য গৃহায়ন প্রকল্প নেয়াসহ বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সময় যত গড়াচ্ছে ততই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে ইরাক। ক্রমেই বাড়ছে বিক্ষোভের পরিধি। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার ধারও বাড়ছে। সপ্তাহের শুরুতে এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। যদিও বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
সরকারি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে রাজধানী বাগদাদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিক্ষোভের সূত্রপাত। ক্রমেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। আহত হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি লোক।

শুক্রবার পর্যন্ত নিহতের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছে। যদিও তারা সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি। আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কারণ অনেক বিক্ষোভকারী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। রাস্তায় অনেকে আহত হয়ে পড়ে থাকলেও কেউ তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। কারণ হাসপাতাল থেকেও গ্রেফতার করছে পুলিশ। আর হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালে রক্ত ও ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে বিক্ষোভাকারীরা দক্ষিণ ইরাকের আল দিবানিয়াহ শহরে প্রাদেশিক পরিষদের ভবনে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সাথে তাদের ব্যাপক সংর্ঘষ হয়। দুর্নীতিবিরোধী এই বিক্ষোভের শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদির পদত্যাগ দাবি করছেন। প্রায় প্রতিদিনই তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। সূত্র : রয়টার্স ও আলজাজিরা।


আরো সংবাদ