১১ ডিসেম্বর ২০১৯

সিরিয়ায় ইরানি ঘাঁটিতে ইসরাইলের হামলা : নিহত ১১

-

সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে বুধবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং দেশটিতে মোতায়েন ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আভিচে আদ্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইলের এই হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।

ইসরাইলের দাবি, গত মঙ্গলবার সিরিয়া থেকে তাদের ভূখণ্ডে রকেট নিক্ষেপের জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে সিরিয়া জানিয়েছে, ইসরাইলি জঙ্গিবিমান থেকে নিক্ষেপ করা বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।
টুইটারে দেয়া এক পোস্টে ইসরাইলি বাহিনীর মুখপাত্র আভিচে আদ্রে জানান, তার দেশের জঙ্গিবিমান সিরীয় ভূখণ্ডে দেশটির সেনাবাহিনী ও ইরানি কুদস বাহিনীর বহু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, সদর দফতর, সামরিক সরঞ্জাম ও সামরিক ঘাঁটির মতো স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। আগের দিন সিরীয় ভূখণ্ড থেকে ইরানের নিক্ষেপ করা রকেটের জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

তার দাবি, প্রকৃতপক্ষে ইসরাইলে হামলা চালাতেই সিরিয়ায় নিজের উপস্থিতি ধরে রেখেছে ইরান। ইসরাইলে তাদের রকেট হামলাই এর প্রমাণ। সিরিয়ায় তাদের অবস্থান সিরিয়া সরকার, ইসরাইল ও পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

সিরিয়ায় ইসরাইলের এই বিমান হামলায় ১১ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজনই ইরানি নাগরিক। ব্রিটেনভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ খবর জানিয়েছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, সিরিয়ায় ইরানের এলিট ফোর্স কুদস বাহিনীর বিভিন্ন অস্ত্রাগার ইসরাইলি বিমান হামলার শিকার হয়েছে। এসব অস্ত্রাগারের অবস্থান দামেস্কের উপকণ্ঠে। এ ছাড়া পশ্চিম দামেস্কের একটি বিমান ঘাঁটিও এ দিন আক্রান্ত হয়েছে।

এ দিকে সিরিয়া জানিয়েছে বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে বুধবার দামেস্কের আকাশে ‘ইসরাইলি যুদ্ধবিমান’ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ কথা জানায়।

সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা পরিবেশিত খবরে বলা হয়, ‘বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে দামেস্ক নগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকা লক্ষ্য করে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।’ এতে আরো বলা হয়, ‘আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ইসরাইলের এ জোরালো হামলা মোকাবেলা করে এবং শত্রু পক্ষের ছোড়া বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দেয়। আমাদের বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্রের বেশির ভাগই তাদের লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।’

এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, তিনি দামেস্কে বেশ কয়েক দফা বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সানা আরো জানায়, ‘লেবানন ও ফিলিস্তিন ভূখণ্ড’ থেকে এ আগ্রাসন চালানো হয়।

ইসরাইল অনেক সময় প্রতিবেশী দেশ লেবাননের আকাশে চক্কর দেয়া তাদের যুদ্ধবিমান থেকে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে থাকে। ২০১১ সালে সিরিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে কয়েক হাজার বার হামলা চালায় ইসরাইল। এসব হামলার ব্যাপারে তাদের ভাষ্য হচ্ছে দেশটিতে থাকা ইরানের সামরিক ও হিজবুল্লাহর অবস্থান তাদের লক্ষ্য।


আরো সংবাদ