২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘রাস্তা থেকে রিকশা সরলেও চালকরা সরবে না’

১১ জুলাই ঢাকায় চালক-মালিকদের সমাবেশ
-

আজ রোববার থেকে রাজধানীর প্রধান তিনটি রাস্তার রিকশা সরাতে অভিযানে নেমেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ফলে সকাল থেকেই রাজধানীর তিনটি সড়কে রিকশা, ভ্যানসহ অবৈধ এবং অনুমোদনবিহীন অন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে রিকশা তুলে দেয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগ। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, ‘রাস্তা থেকে রিকশা সরলেও চালকরা সরবে না। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে একটি ঘোষণা দিয়েই রিকশা বন্ধ করা যাবে না।’ আগামী ১১ জুলাই ঢাকায় সমাবেশেরও ঘোষণা দিয়েছে রিকশা চালক ও মালিকদের বৃহৎ এই সংগঠনটি।

সকাল থেকেই রিকশা বন্ধ হওয়া সড়ক তিনটি হচ্ছে গাবতলী থেকে মিরপুর রোড হয়ে আজিমপুর ও সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত। এখানকার প্রধান সড়কে এ ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। মোড়ে মোড়ে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় থানা পুলিশ এই অভিযানে সহায়তা করছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মুনিরুজ্জামান নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা সকাল থেকে রাস্তায় কাজ করছি। প্রধান রাস্তায় কোনো রিকশা ঢুকতে দিচ্ছি না। আমাদের সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি টিম রয়েছে । তারা পৃথক পৃথকভাবে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দায়িত্ব পালন করছে। কোনো রিকশাকেই প্রধান রাস্তায় আসতে দেয়া হচ্ছে না। মাইকিং করেও রিকশা চালকদের সতর্ক করা হচ্ছে।

এদিকে রোববার সকাল থেকেই রিকশা না পেয়ে অনেক স্থানে ভোগান্তিতেও পড়েছেন অনেক যাত্রী। বিশেষ করে সকালের দিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী যাত্রীরাই বেশি দুর্ভোগে পড়েন। নিকট দূরত্বে অনেকে রিকশা না পেয়ে পায়ে হেঁটেই নিজ নিজ গন্তব্য পৌঁছেছেন তারা।

জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইনসুর আলী নয়া দিগন্তকে জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মহোদয় আমাদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা আগেও বলেছি রাজধানী থেকে রিকশা তুলে দেয়ার দরকার নেই শুধু অবৈধ রিকশা বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি আরো জানান, দুই সিটিতে মোট ৮৮ হাজার বৈধ রিকশা আছে। এই বৈধ রিকশা রাস্তায় চলছে এগুলো চোখেও পড়বে না। আমরা চাই অবৈধ রিকশা উচ্ছেদ হোক। মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়।

রিকশার জন্য রাস্তায় আলাদা লেন করারও দাবি জানান এই নেতা।

উল্লেখ্য, নগরীর যানজট নিরসনে গত ৩ জুলাই ঢাকার পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রথম সভায় রাজধানীর প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়কের মূল অংশে সব ধরনের রিকশা, ভ্যান এবং অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে এসব সড়কের সাথে সংযোগকারী সড়কগুলোতেই শুধু চলাচল করতে পারবে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন পাওয়া রিকশা।

একই সাথে ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ (ডিএসসিসি) সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং আরো কয়েকটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাবতলী থেকে আজিমপুর অর্থাৎ মিরপুর রোড ও সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং প্রগতি সরণির কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়কে যেন কোনোভাবেই রিকশা চলাচল করতে না পারে, তার জন্য প্রতিদিনই থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


আরো সংবাদ