২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং সেবা

চালকদের আতঙ্ক ‘রং পার্কিং’

চালকদের আতঙ্ক ‘রং পার্কিং’ - ছবি : নয়া দিগন্ত

পুলিশ ধরলেই রক্ষা নেই। নির্ঘাত মামলা, নয়তো জরিমানা। ঢাকায় অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং সেবায় যুক্ত চালকদের কাছে এখন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘রং পার্কিং।’ ঢাকার রাস্তায় চলাচলকারী প্রত্যেক চালকের কাছেই এ শব্দটি যেন একটি সাক্ষাৎ ‘যমদূত’। ট্রাফিক পুলিশের ভাষায় যানজটের প্রধান কারণ এ মোটরসাইকেল। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলগুলোই যেন ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টিতে যানজটের প্রধানতম কারণ। 

গত কয়েক দিন নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলগুলো বাস স্টপিজ থেকে কিছুটা দূরে পার্কিং করা থাকে। চালকেরাও থাকেন মোটরসাইকেলের উপরেই বসা। এরপরও ট্রাফিক পুলিশের প্রতি তীক্ষè দৃষ্টি থাকে প্রত্যেক চালকের। ভয় একটাই, রং পার্কিংয়ের মামলা। 

গত ২৮ আগস্ট বুধবার। বিকেল সাড়ে ৪টায়। কাকরাইল রাজমনি সিনেমা হলের উল্টোপাশে ৮-১০টি মোটরসাইকেলের জটলা। এখানে মোটরসাইকেলের এ ধরনের একটি জটলা থাকে প্রায় সময়ই। চালকদের প্রায় প্রত্যেকেই দৃষ্টি রাখছেন ট্রাফিক পুলিশের প্রতি। সালাম নামের এক চালক নয়া দিগন্তের এই প্রতিবেদককে জানালেন, কী করব ভাই! প্রধান রাস্তা থেকে দূরে সরে এসে শাখা রাস্তাতে কিংবা গলির রাস্তাতেও আমরা দাঁড়াতে পারি না। রং পার্কিংয়ের মামলা দেয় পুলিশ। 

একই দিন বিকেল ৫টা। পল্টন মোড়ের থেকে বেশ কিছুটা সামনে উত্তর দিকে প্রিতম ভবনের সামনে পাঁচ-সাতটি মোটরসাইকেল দাঁড় করানো। চালকেরাও আছেন সবাই। হেলাল নামের এক চালক জানালেন, এলাকার কোনো মোড়েই আমরা এক মিনিটের জন্যও দাঁড়াতে পারি না। যাত্রী উঠানো কিংবা নামাতে হলেও অনেক দূর এগিয়ে গিয়েই আমাদের মোটরসাইকেলই দাঁড় করাতে হয়। ট্রাফিক পুলিশ মোড়ে দাঁড়ানো দেখলেই সাথে সাথে ‘রং পার্র্র্র্র্কিং’ মামলা। আমরা রাস্তার মোড় থেকে অনেক দূরে এসে দাঁড়াই। তারপরও অযথাই মামলা দেয় পুলিশ।

অবৈধ বা রং পার্কিং বিষয়ে পাঠাওয়ের বনানীস্থ ‘অপারেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারের’ ট্রেনিং শাখার এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানান, প্রত্যেক চালককে রেজিস্ট্রেশন করার সময়েই দেড় ঘণ্টার একটি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এখানে মোবাইলে অ্যাপ পরিচালনা, যাত্রীদের সাথে ব্যবহার ও গাড়ির পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন বিষয়ে একটি ধারণা দেয়া হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য পার্কিং বিষয়ে আলাদা একটি সেশনই থাকে যেখানে পার্কিং নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপরও অনেক চালকই রঙ পার্কিং নিয়ে পুলিশের হয়রানির অভিযোগ আমাদের অফিসে জানান। 

রাজধানীতে ‘রং পার্কিং’-এর নামে মোটরসাইকেল চালকদের ঢালাওভাবে হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে গত রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সূত্র ধরেই মোটরসাইকেল আটক বা চালককে জরিমানা করি। তিনি এটাও বলেন, রাজধানীতে প্রতি মাসে আমরা গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার মোটরসাইকেল আটক বা জরিমানা করি। এর মধ্যে দু’একটি বিষয়ে চালকদের হয়তো কিছু অভিযোগ থাকতে পারে। তবে এটাও হওয়ার কথা নয়।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা আরো জানান, রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করছে। আমরা আশা প্রকাশ করছি নগরীর সব মোটরসাইকেলকে আমরা খুব শিগগিরই একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারব। মোটরসাইকেলকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার রাজধানীতে ব্যাপকভাবে পাবলিক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই বাস সার্ভিস চালু হলে মোটরসাইকেল প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা এগুলো বন্ধ করাটা অনেকটাই সহজ হবে।

এ দিকে বিভিন্ন রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল ও অন্য গাড়ির রং পার্কিং বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, রাজধানীর যানজট নিরসনের জন্যই প্রতিদিন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ২৮ আগস্টের অভিযানের উদ্ধৃতি দিয়ে এক কর্মকর্তা জানান, ওই দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মোট আট হাজার ৩৩২টি মামলা এবং ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এ ছাড়াও অভিযানকালে ৪৯টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৯৮৮টি গাড়ি রেকার করা হয়। সূত্র আরো জানায়, ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে এক দিনেই দুই হাজার ৭৭৪টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা ও ২১২টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়।


আরো সংবাদ