২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিবন্ধন নিয়েছে ১২ কোম্পানি রাস্তায় নামছে ২ লাখ বাহন

নিবন্ধন নিয়েছে ১২ কোম্পানি রাস্তায় নামছে ২লাখ বাহন - ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরেই ঢাকার রাস্তায় নামছে আরো প্রায় দুই লাখ নতুন মোটরসাইকেল। ইতোমধ্যে এসব বাহনকে (রাইড শেয়ারিংয়ের আওতায়) নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্ট দফতর তথা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) থেকে নতুনভাবে নিবন্ধন নিয়েছে ১২টি কোম্পানি। রাইড শেয়ারিং পরিচালনার জন্য এসব কোম্পানি চূড়ান্ত অনুমোদনও পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ঢাকার অর্ধেক রাস্তা দখল করবে রাইড শেয়ারিংয়ের আওতাভুক্ত এসব বাহন।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় যেসব রাইড শেয়ারিং কোম্পানি পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোকে একটি কোম্পানির নামে নিবন্ধন নিয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েই যানবহন পরিচালনা ছাড়পত্র নিতে হয়। গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিআরটিএর তালিকায় দেখা গেছে ১২টি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি তাদের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েছে। আর জুলাই মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত শুধু ঢাকা শহরেই নতুন মোটরসাইকেল নেমেছে ৬১ হাজার ১৩২টি।

বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি বছরই দেশে নামছে অনেক নতুন মোটরসাইকেল। তবে এটা অনেকটা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে গত দুই বছরে। এ ছাড়া নতুন মোটরসাইকেল রাস্তায় নামার যে পরিসংখ্যান সেটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে নতুন গাড়ি রাস্তায় নামার হার ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী।

গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য হারে নতুন গাড়ি রাস্তায় নামার একটি পরিসংখ্যান নয়া দিগন্তকে দিয়েছে বিআরটিএ। সংস্থাটির দেয়া তথ্য মতে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে সারা দেশে নতুন মোটরসাইকেল রাস্তায় নেমেছে তিন লাখ ৩২ হাজার ৫৭টি। এর মধ্যে শুধু রাজধানীর রাস্তায় নেমেছে নতুন ৫৩ হাজার ৭৩৮টি মোটরসাইকেল। ২০১৭ সালে পুরো দেশের হিসাবে নতুন মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রি হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০টি, শুধু ঢাকায় নেমেছে ৭৩ হাজার ২৫১টি। ২০১৮ সালে সারা দেশে যোগ হয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬০৩টি মোটরসাইকেল। অন্য দিকে শুধু রাজধানীতে যোগ হওয়া মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৪ হাজার ৬৪টি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে নতুন রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০টি, যা বছর শেষে পাঁচ লাখ ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নেমেছে ৬১ হাজার ১৩২টি মোটরসাইকেল, যা বছর শেষে সোয়া লাখ ছাড়াতে পারে।

এখন ঢাকায় যেসব মোটরসাইকেল নামছে সেগুলোর সাথে ঢাকার বাইরে থেকে আসা বড় একটি সংখ্যার মোটরসাইকেল বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং কোম্পানিতে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। এভাবে রাজধানী ঢাকায় মোটরসাইকেলের চাপটি প্রকৃত অর্থেই বাড়ছে। এতে ঢাকার বাইরে ও ঢাকায় মিলে বছরে প্রায় দুই লাখের মতো নতুন মোটরসাইকেল রাজপথ দাবিয়ে বেড়াবে।

বনানীস্থ বিআরটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক (ইঞ্জি-৩) বিমলেন্দু চাকমা জানান, আগস্ট মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত বিআরটিএ থেকে মোট ১২টি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ছিল যথাক্রমে পিকমি লি:, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লি:, ওভাইসলিশনস্ লি:, চালডাল লি:, পাঠাও লি:, ইজিয়ার টেকনোলজিস লি:, আকাশ টেকনোলজি লি:, সেজেস্টো লি:, সহজ লি:, উবার বাংলাদেশ লি:, বাডিলি এবং আকিজ অনলাইন লি:।

রাজধানীতে প্রতিবছর যে হারে নতুন মোটরসাইকেল নামছে তাতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে কতটুকু ধকল পোহাতে হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজউদ্দিন আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, চাপ তো ট্রাফিক বিভাগের ওপরে অবশ্যই বাড়বে এটা ঠিক, তবে নগরবাসীকে তাদের অভ্যাসের পরিবর্তন করতে হবে। ভালোমানের যাত্রীবাহী বাস রাজধানীতে দেয়ার উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে। এতে যানজটের চাপ অনেকাংশেই কমবে। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন করা হলে এর কোনো ভালো ফল আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, আলাদা লেন করা হলে মূল সড়ক আরো সঙ্কুচিত হবে। তার চেয়ে ভালো ফলাফল আসবে যদি পাবলিক বাস আরো বাড়ানো যায়। আর এতে রিকশা, অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলের ওপর নগরবাসীর আগ্রহ করবে।

নতুন নতুন মোটরসাইকেল রাস্তায় নামা এবং রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে এগুলোর পরিচালনার বিষয়ে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মশিয়ার রহমান জানান, ইতোমধ্যে একটি নীতিমালার গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এই গেজেটে রাইড শেয়ারিংয়ের আওতায় শুধু মোটরসাইকেল নয়, এই সার্ভিসের অন্যান্য বাহনের জন্য একটি গাইড লাইন দেয়া হয়েছে। এই গাইড লাইনের আলোকেই এখন রাইড শেয়ারিংয়ের আওতায় রাজধানীতে এই সেবা দিচ্ছে নিবন্ধিত ১২টি কোম্পানি।


আরো সংবাদ