২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাকার মুক্ত রাস্তায় নেচে গেয়ে সময় কাটল শিশুদের

এসব শিশুদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরা যেন কেমন আনমনা হয়ে উঠছিল রাজধানীতে এমন আয়োজন পেয়ে। - ছবি : নূর হোসেন পিপুল

‘সারাদিনে একটু আধটু বাইরে যাই। একটু হাটা-হাটি আর কি! সময়-ইতো পাই না বাইরে ঘুরতে। যাবো আর কই? বাসার সামনে একটু হাঁটি। আর এজন্যই তো আজ মায়ের সাথে ভাই বোনসহ আসলাম এখানে।’

কথাগুলো ছোট্ট শিশু আরহাম করিম রহমানের। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ক্লাস ওয়ানের ছাত্র সে। তার বাবা মাকসুদুর রহমান একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা। আরহাম আজ মায়ের সাথে ভাইবোন নিয়ে এসেছে মানিক মিয়া এভিনিউতে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের এক কোণে এক টুকরো জায়গায় আয়োজন করা হয় গাড়িমুক্ত রাস্তা। আর তাতেই কয়েক শ’ শিশু এসেছে এমন একটি পরিবেশে ছুটোছুটি করতে।

ক্ষুদ্র পরিসরে এমন তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন পেয়ে ইটপাথরের মোড়া রাজধানীতে বেড়ে উঠা শিশুরা দারুণ উপভোগই করছিল। কেউ উড়াচ্ছিল বেলুন, ঘুড়ি; কেউ অতটুক জায়গা পেয়ে এপাড় থেকে ওপাড়ে ছুটোছুটি করছিল। আর কেউ মন হচ্ছে এমন মুক্ত পরিবেশ পেয়ে কি করবে ভেবেই উঠতে না পেয়ে বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘোরাঘুরি করছিল।

ডা: মাহফুজুর দাইয়ান খান নিয়ে এসেছেন তার সন্তান মাহির দাইয়ান খানকে গাড়িমুক্ত রাস্তা দেখোতে। মোহাম্মদপুর মডেল স্কুলের ক্লাস ফোরের ছাত্র সে। মাহফজুর দাইয়ার জানান, বড় ধরণের ছুটি পেলে তার এ সন্তানকে গ্রামের বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রকৃতির ছোঁয়ার পাশাপাশি পারিবারিক মধুর বন্ধনে তাকে রাখার চেষ্টা করা হয়।

‘ভেঙে যাক বন্ধনে যত খোয়ার, গাড়িমুক্ত রাস্তায় ছুটুক আনন্দের জোয়ার’ এমন শ্লোগানে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে এ আয়োজনে বাবার হাত ধরে মাহির হাঁটাহাঁটি করলেও অনেকে রাস্তায় ম্যাট বিছিয়ে আপন মনে আঁকিবুকি করছিল। কেউ আবার আপন মনে গানও গাচ্ছিল দলবেঁধে। কেউ আবার ফুটবল নিয়ে এপার তেকে ওপাড়ে ছুটোছুটি করেছে। কারো হাতে আবার তীর-ধনুকও ছিল। চলছিল ক্যারাম-লুডু নিয়ে খেলাধুলা।

তবে এসব শিশুদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরা যেন কেমন আনমনা হয়ে উঠছিল রাজধানীতে এমন আয়োজন পেয়ে। আর তাই এজন্য কেউ বলছিল এমন আয়োজন আরো চাই, আরো চাই ! আরো চাই মুক্ত শৈশব। মোদ্দাকথা, মানিক মিয়া এভিনিউতে আজ ছিল মুক্ত শৈশবের এক নান্দনিক আয়োজন।

ব্যস্ত শহরে শিশুদের সুষ্ঠু মানসিক বিকাশের জন্য ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অডিনেশন অর্থরিটির সাথে একত্রিত হয়ে ডিটারজেন্ট ব্রান্ড এক্সেল আয়োজন করে কার ফ্রি স্ট্রিট। ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্রান্ড সার্ফ এক্সেলের সাথে সহকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এমন শিশু বান্ধব উদ্যোগের আয়োজন এই প্রথম।

সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলা এমন আয়োজনের ফাঁকেই হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনা। ‘মুক্ত হোক শৈশব’ এ প্যানেল আলোচনা বলা হয় নগরায়নের প্রভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। ইট, বালু, পাথরের আড়ালে আটকা পড়েেছ বর্ণিল শৈশব। শৈশব কাটছে এখন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের সাথে। তবে এসবই একটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আলোচনা অংশ নেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের ফ্যাব্রিক সলিউসন্স ক্যাটাগরি হেড জিশান বায়োজিদ রহমান, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউশন অব মেন্টাল হেলথের ডিরেক্টর ডক্টর মোহিত কামাল, সেইভ দ্যা চিলড্রেন অর্গানাইজেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর সৈয়দ মাতিন হাসান ও ডিটিসিএ অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি জাকির হোসেন মজুমদার।


আরো সংবাদ